সরিষাবাড়ী ( জামালপুর)সংবাদদাতা।।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে দুর্ভোগ । দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকট। বন্যায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও পৌর এলাকায় বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেড় শতাধিক গবাদি পশুর প্রাণহানি ঘটেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ২ হাজার হেক্টর বীজতলা ফসলি জমি। পানি কমতে শুরু করলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টের বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ডা. মুরাদ হাসান এমপির নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে ইতিমধ্যে নগদ টাকা, ঢেউটিন, চাল ও শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে পাট, আউশ ধান, আমন ধানের বীজ তলা, তীল, সবজি খেত, ও গোচারণ ভূমিসহ ২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি। বীজতলা ফসলি জমি ২ হাজার হেক্টর যাহাতে আমন বীজ তলা ৪৫, আউশ ৭০, পাট ১৬৫০, শাক সবজি ৯০, তীল ২৫, আখ ১০ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৩ টন চাল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা এসেছে । আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ডা. মুরাদ হাসান এমপির নির্দেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যা কবলিত মানুষের বাড়ী-বাড়ী গিয়ে ত্রান বিতরন করা হয়েছে এবং ত্রান বিতরনের কাজ চলমান আছে। এ উপজেলার বন্যা কবলিত প্রতিটি পরিবারের মাঝে পানি না কমা পর্যন্ত ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ ত্রান বিতরন অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি বন্যায় উপজেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর বীজতলা ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি এভাবে বৃদ্ধি পেলে আরো বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা সরকারী ভাবে ভতুর্কি পাবে।
You must be logged in to post a comment.