আব্দুল বারেক ভূইয়া, শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের নামের তালিকায় সমাজের বিত্তশালীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হতদরিদ্রদের জন্য ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী নামে ইউনিয়ন ভিত্তিক ডিলার মাধ্যম ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাউল বিক্রয় কেন্দ্র চালু রেখেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ স্বজনপ্রীতি করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের নাম তালিকাভুক্ত না করে সমাজের বিত্তশালীদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।
এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সারা ইউনিয়ন জুড়ে সাধারণ মানুষের মনে জেগে উঠেছে নানা প্রশ্ন । ভেদরগঞ্জ উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তালিকা সূত্রে জানা যায় যে, দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নে সর্বমোট ৬১৮ জন হতদরিদ্র কার্ডধারী ভোক্তা ও দুটি চাউল বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে চাউল বিক্রয় কেন্দ্রের ডিলার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আমাদের ইউনিয়নে যে সকল ব্যক্তিদের নাম হত দরিদ্রদের তালিকায় রয়েছে এর মধ্যে ৫০% ভোক্তা রয়েছেন সমাজের বিত্তশালী। মোঃ কুদ্দুছ চৌধুরী, সোবাহান মির্জা, মতি বেপারী, পারুল বেগম, ফিরোজ বেগমসহ একাধিক হতদরিদ্র ব্যাক্তিরা বলেন, আমরা গরীব অসহায় হতদরিদ্র কিছুদিন পূর্বে হতদরিদ্র চাউলের কার্ডের জন্য চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জির নিকট গিয়েছিলাম। কিন্তু নুরুদ্দিন দর্জি আমাদেরকে কোন হতদরিদ্র চাউলের কার্ড দেয়নি।
শুধু তাই নয় সে আমাদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করেছেন। চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জির চাচাতো ভাই পঞ্চাশ বিঘা জমির মালিক নিজাম দর্জির ছেলে সাহাবদ্দিন দর্জিকে হতদরিদ্র চাউলের কার্ড দিয়েছে।
তাই আমাদের দাবি শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ.কে.এম এনামুল হক শামীম ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় যেন বিষয়টিকে বিবেচনা করে বিত্তশালীদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত হতদরিদ্রদের নাম পুণরায় তালিকাভূক্ত করেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার কোন সাক্ষাৎ মিলেনি।
You must be logged in to post a comment.