আবদুল মান্নান
-এল এল বি।।
অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার মত শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের টাকা গিলে খাচ্ছে।সাথে আছে মকসুদ আহমদের মত পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানের টাকা অপব্যবহার করে নুসরাত জাহান রাফির মত ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারছে। প্রতিষ্ঠানের টাকা লুটপাট হচ্ছে।
সে টাকার কোন হিসেব দিতে হয় না সরকার বাহাদুরের কাছেসিরাজউদ্দৌলার মত অধ্যক্ষের উত্থানের কেন্দ্রবিন্দু হল প্রতিষ্ঠানের আয়ের ইচ্ছেমত ব্যবহার করার অদ্ভুত ক্ষমতা।মেজরটি সাধারণ শিক্ষক এ ক্ষেত্রে পুরো অসহায়।
অন্যদিকে অর্থ সংকটের ধোঁয়া তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অসহায় শিক্ষকদের পকেট কাটছে। বেতন থেকে অতিরিক্ত আরও ৪% সহ মোট ১০% কর্তন করার জন্য দফায় দফায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। ইন্ধন যোগাচ্ছে সিরাজউদ্দৌলার মত লম্পট ও দুর্নীতিগ্রস্ত কতক স্বঘোষিত শিক্ষক নেতা। নাম লিখতে ঘৃণা লাগছে তাই লিখলাম না।
সারা দেশের ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মানববন্ধন করেছে।স্মারক লিপি প্রদান করেছে। মন্ত্রণালয়ের উধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অতিরিক্ত ৪% কর্তন প্ররজ্ঞান বাতিলের জন্য আলাপ-আলোচনা করছে এবং করেছে। শিক্ষকদের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে বাস্ততবতা তুলে ধরেছে একাধিকবার।
এত কিছুর পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রজ্ঞাপন জারি করছেনা তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা হলে শিক্ষকদের পকেট কাটতে হবেনা তা অনুধাবন করার জন্য উচ্চতর ডিগ্রি কিংবা পি এইচ ডি করা লাগবেনা। সততার ডিগ্রি থাকলে কালই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা না হলে শিক্ষক সমাজ আবারো রাজপথে আন্দোলন করতে যাবে। শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হবে। শেষে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াবে। যা একটি রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লোভনীয় ও সম্মানজনক হবেনা কখনো।
সুতরাং শিক্ষামন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ ফরাস উদ্দিন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা রাখার ব্যবস্থা করুন। অর্থ সংকট থাকলে তা দিয়ে দূর করুন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম চিরতরে বন্ধের ব্যবস্থা করুন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় কোষাগারে জমা রাখা হলে কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে পারবেনা।
উল্লক্য যে, বেসরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পায় মাত্র এক হাজার টাকা।চিকিত্সা ভাতা পাঁচ শত টাকা। ঈদ বোনাস ২৫%। তাদের টাইম স্কেল নাই।পদোন্নতি না।বদলি নাই। বিনোদন ভাতা নাই।শিক্ষা ভাতা। লাঞ্চ ভাতা নাই। আজীবন পেনশন নাই। জীবনের নিরাপত্তা নাই। প্রতিষ্ঠানে গেলে শান্তি নাই।স্বাধীনতা নাই। নাই বলতে যা আছে সব শিক্ষকদের আছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় আশু সংকট সমাধান করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ একজন ব্যক্তি নিজের জেদ চরিতার্থ করার জন্য নিজের চেয়ারকে অপব্যবহার করছে। সারা দেশের শিক্ষক সমাজকে বলির পাঁঠা বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।শিক্ষকদের সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চক্রান্ত করছে।
সেই “মহা ক্ষমতাধর” ব্যক্তিকে চিন্তিত করে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। নচেৎ খন্দকার মুস্তাকের এই বিষধর সাপের আকৃতি ধারণ করে সরকারকে ছোবল মারার অপচেষ্টা চালানোর দুঃসাহস দেখাতে চাইবে।
You must be logged in to post a comment.