আব্দুল বারেক ভূঁইয়া, শরীয়তপুর।।
শরীয়তপুরে ভেদেরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ডি.এম খালি ইউনিয়নের ২৯ নং উকিল কান্দি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীরা মাথার চুল বড় রাখার কারণে ১৩জন ছাত্রীর চুল কেটে দিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ।
স্কুল ছাত্রীদের মাথার চুল কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রীদের মাথার চুল কাটার পর থেকে তানজিলা আক্তার (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্র বার সরেজমিনে গিয়ে স্কুল ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে প্রধান শিক্ষিকা ছাত্রীদেরকে শ্রেণি কক্ষে ডেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরী জুম্মানকে দিয়ে এলো পাথারি ভাবে ছাত্রীদের মাথার চুল কেটে দেয়। স্কুল ছুটির পরে ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পরে এবং পিতা-মাতার কাছে বিষয়টি খুলে বলে।
ছাত্রীদের অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে এসে ছাত্রীদের মাথার চুল কাটার বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ ও সহকারি শিক্ষিকা হালিমা বেগম অভিভাবকদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করেন এবং বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। ২৯নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নাহিদা আক্তার, সুমনা আক্তার, ফাহ্মিদা আক্তার, হাবিবা আক্তার, বিথী আক্তার, ফারহানা আক্তার, মাহিদা আক্তার, তানজিলা আক্তার, রিবা আক্তার ও হামিদা আক্তার জানায় আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দপ্তরিকে দিয়ে আমাদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার কারণে আমরা মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পেয়েছি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঐ বিদ্যালয়ে যাবো না।

প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপের সাথে মুঠো ফোনে ছাত্রীদের মাথার চুল কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন ছাত্রীদের মাথার চুল এলোমেলো ছিল তাই আমি দপ্তরিকে দিয়ে ছাত্রীদের মাথার চুল কেটে দিয়েছি।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ছাত্রীদের মাথার চুল কেটে দেওয়া শিক্ষা নীতি মালার পরিপন্থি কাজ। তাই আমি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
You must be logged in to post a comment.