শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম, খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নাম করে ভূমিহীনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের ৩৬ নং চর লাউখোলা মৌজার ৩৬ একর ৮১ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নাম করে স্থানীয় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন ভূমিহীন পরিবারের কাছ থেকে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম চল্লিশ হাজার থেকে আশি হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের ঘুষ বাণিজ্যের হাত থেকে রেহাই পায়নি এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশা চালক, ভ্যান চালক, দিন মজুর ও দরিদ্র অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তিরাও। ৩৬ নং চর লাউখোলা মৌজার বালিকান্দি গ্রামের খাস জমি বন্দোবস্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরা হলেন, মোঃ কালু বেপারী, আনিছ বেপারী, আবুল কালাম বেপারী, মোসাঃ বানেছা বেগম, শারীরিক প্রতিবন্ধী রকমান সরকার, মোসাঃ জরিনা বেগম, বিশাই শেখ, রিকশা চালক মোয়াজ্জেম হোসেন, আদম শেখ, জলিল শিকদার, কাদের শিকদার, মোঃ আলী শিকদার, শাহ আলম কবিরাজ, সালাম মাদবর, আবুল কালাম মাদবর, জুলহাস কাজি, আঃ হক শিকদার, ইদ্রিস শেখ, মোছলেম কাজি, মালেক বেপারী, নুরু কাজি, মুছা সারেং, তাজেল ফকির, রহিম ফকির, কাসেম কাজি, খালেক বেপারী, শিউলী বেগম, কালাই শেখ, শামীম হোসেন, আমজাদ খালাসী, মান্নান খালাসী, সুলতান খালাসী, আদম খালাসী, কদম খালাসী, ইয়াসিন খালাসী ও জুলহাস ফরাজীসহ আরো অনেকেই।
গত ২৭ জুলাই শনিবার সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান ৩৬ নং চর লাউখোলা মৌজার খাস জমি এস এ খতিয়ানের বেশির ভাগ জমির মালিক ছিলেন বড় কৃষ্ণপুরের মাদবর পরিবার।
১৯৮০ সালে মাদবর পরিবারের কাছ থেকে দখল মূলে ক্রয় করে বসত বাড়ি ঘর করে জীবন যাপন করে আসছি। গত পাঁচ থেকে ছয় মাস পূর্বে মূলনা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম আমাদের ঘর বাড়ি ও ফসলী জমিতে লাল নিশান উড়িয়ে ব্যক্তি মাধ্যম মাইকিং করে সরকারি খাস জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন এবং ব্যক্তি মাধ্যম আমাদেরকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। আমরা তার সাথে দেখা করতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম আমাদেরকে বলেন আমি আপনাদের নামে খাস জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ এনে দিব আপনারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবেন। তিনি আমাদেরকে আরও বলেন, ২০ শতকের নিচে যাদের জমি আছে মাথাপিছু তাদের দিতে হবে চল্লিশ হাজার টাকা।
২০ শতকের উপরে যাদের জমি আছে তাদেরকে মাথাপিছু দিতে পঞ্চাশ হাজার টাকা। এই বলে আমাদের কাছ থেকে মাথাপিছু চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার ও আশি হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাথাপিছু হাতিয়ে নিয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের এই দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে যেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছি।
মূলনা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের কাছে এই অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। জাজিরা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা পংকজ দেবনাথের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন মূলনা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের অনিয়মের বিষয়টি আমি জানি না। আমার কাছে ঐ এলাকার কোন ব্যক্তি মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেনি।
You must be logged in to post a comment.