করোনা মহামারির কারনে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে তা মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ আছে।
আশা করি কিছু দিনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের বেশি ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসকারি অর্থাৎ এমপিও, নন এমপিও।
২০১৫ সালে শিক্ষামন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয় বেসকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হাতে। এনটিআরসিএ ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধু নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব ছিল এবং নিয়োগদানের ক্ষমতা ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির হাতে।
এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি সীমা ছিল না । ২০১৫ সালের পরিপত্রে বলা হলো পিএসসির আদলে প্রীলি, লিখিত, ভাইভায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা উপজেলা ,জেলায় মেধার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ পাবে।সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে ১৩ তমের সার্কুলার জারি করে ।দীর্ঘ ১ বছর ৫মাস পরে ২০১৭ সালের ৮ই জুন প্রীলি, লিখিত, ভাইভার মাধ্যমে শুন্যপদের বিপরীতে প্রায় ১৭ হাজার প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে। ফলে ২০১৬ সালে আগের সনদ অর্জনকারী ১ – ১২ তমের সনদ বাতিল করে । ১ – ১২ হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে মহামান্য হাইকোটে ১৬৬ টি রিট পিটিশন দায়ের করে । রিটের কারনে ১৩ তমরা নিয়োগ বঞ্চিত হয় এবং তারাও হাইকোটে রিট করে।হাইকোট ১৪ই ডিসেম্বর ,২০১৭ সালে ১৬৬ টি মামলার ৭টি নির্দেশনাসহ মিমাংশিত রায় প্রদান করে । এনটিআরসিএ সনদ অর্জন কারীরা জাতীয় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবে এবং নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদ বহাল থাকবে । আবার ১২ই জুন,২০১৮ সালে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ জারী করা হয় । এতে করে ছয়মাস কম্পিউটার ডিপ্লোমাধারী আইসিটি ও ৩৫ বছর উর্ধ্ব নিয়োগ বঞ্চিত হয়। এমন কি সদ্য পাস করা ১৪ তম প্রভাষক আইসিটি শিক্ষকরাও ২য় চক্রের গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে পারেনি, নীতিমালার কারনে। যা হাইকোটের রায়ের পরিপন্থী।
অপরদিকে ৫ নভেম্বর, ২০১৮ সালে হাইকোট ১৩ তমদের গেজেট ও পরিপত্র অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে একক নিয়োগের রায় প্রদান করে । তৎকালীন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান জনাব আশফাক হোসেন চেম্বার কোটে ১৩ তমদের রায় কে স্টে করে ২য় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে । গত ১২ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোটের রায়কে বহাল রাখে তাই এখন মধুর সমস্যায় এনটিআরসিএ।কারণ একদিকে ১ – ১২ তমের রায় অন্য দিকে ১৩ তমের রায় এবং নীতিমালা–২০১৮ বাস্তবায়ন।। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম এনটিআরসিএ নাকি দুই রায়কে সমন্বয় করার জন্য আদালতের দারস্ত হবে। অথবা ১৩ তম রায়কে স্থগিত করে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে।এছাড়া এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে বর্তমানে যেসব মামলা চলমান আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – রায় পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারনে কন্টেম মামলা,ছয়মাস মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমা ধারীদের আইসিটি মামলা, সম্প্রতি রায় পাওয়া ৩৫ বছর উর্ধো মামলা যা বর্তমান আপিল বিভাগে চলমান। মোট কথা শত শত মামলা এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে।
আর সব নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত যদি হাইকোর্টই দেয় তাহলে এনটিআরসিএ র প্রয়োজন কতটুকু?অবাক করার বিষয় একটি মামলা রায়ও এনটিআরসিএ পক্ষে যায়নি।তাহলে কেন এত ভুল সিদ্ধান্ত? কেন বেকারদেরকে হাইকোটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে??১-১২ তম এবং ১৩ তমদের কোন ব্যবস্থা না করেই, বিভিন্ন পরিপত্র জারীর কারনে মামলাসহ নিয়োগের নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারনে এই সব জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
তাই আজ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে ।।সরকারের যে স্বপ্ন “ডিজিটাল বাংলাদেশ তা ব্যাহত হচ্ছে।কিছু দিন আগে এনটিআরসিএর নতুন চেয়ারম্যান আকরাম স্যার যোগদান করেছে।আশা করি তিনি খুব তারাতারি সব বিষয় সমন্বয়, খুব শীঘ্রই ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি জারী করবেন।
তাই এসব অচল অবস্থা দুর করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক
সহকারী শিক্ষক (গণিত)
রাসুলপুর দাখিল মাদ্রাসা, বাহুবল, হবিগঞ্জ।
You must be logged in to post a comment.