রামগঞ্জে ত্রিশ বছরেও রাস্তা পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০, ৯:২১ অপরাহ্ন
রামগঞ্জে ত্রিশ বছরেও রাস্তা পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নং ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের কাঁচা সড়কের বেহাল দশা। ত্রিশ বছর থেকে রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে। বৃষ্টি হলে কাঁদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীকে এ সড়কে চলাচল করতে হয়।

উপজেলার সোনাপুর -বাংলাবাজার সড়কের আরমবাড়ীর তেহমনী থেকে নয়নপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হানাফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নারয়ানপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং লাউতলী কলেজে যাওয়ার একমাত্র দেড় কিলোমিটারের কাঁচা রাস্তা এটি।

রাস্তাটি পাকা করার দাবি ৩০ বছরের। বর্ষায় রাস্তা জুড়ে কাঁদা মাটি থাকায় চলাচলকারী মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। রাস্তায় যানবাহন চলাচল দুরের কথা, পায়ে হেটেও পথচারীদের রাস্তা পাড়ি দেওয়াই দুরূহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

এ রাস্তায় রোগী নিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ী চলাচল করতে পারছে না। উপরন্ত পথচারীদের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। আবার জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌছতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তার করুন দশার কারনে কৃষকের পাকা ধান কিনতে এ মুখো হচ্ছেন না কোন পাইকার। ফলে পাকা ধান বিক্রি করতে পারছে না কৃষককুল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০ হাজার মানুষের গ্রামটির ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাংলাবাজার ও লতিফগঞ্জে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য দেড় কিলোমিটার। এ গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, একটি দাখিল মাদ্রাসা এবং একটি স্কুল এন্ড কলেজ ও এম এ গোফরান গ্লোরিয়াস ইংলিশ মিডিয়াম নামে দুইটি কিন্টারগার্টেন আছে ও একটি এতিমখানা আছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে গ্রামের ছেলেমেয়েরা কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে দুই কিলোমিটার দূরের নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়, লাউতলী কলেজে যাতায়াত করে। গ্রামটির কিছু মানুষ স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজ করেন।

গ্রামের বাসিন্দা নয়নপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম বলেন, বৃষ্টি হলে কাঁচা রাস্তায় কাঁদাপানি জমে থাকে। তখন রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলতে পারে না। এমনকি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় যেতে অনিহা প্রকাশ করে। সবচেয়ে বেশী সমস্যা হয় অসুস্থ্য রোগীদের হাসপাতালে নিতে।

গ্রামের বাসিন্দা রফিক মাষ্টার, দৌলতগাজী বাড়ীর মসজিদের ইমাম আলামিন, ব্যবসায়ী রাজা মিয়া বলেন, ৩০ বছর ধরে এ রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন জন প্রতিনিধিরা। কিন্তু কোন প্রতিনিধিই কথা রাখেননি।

ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মতিন বলেন, ‘এ গ্রামের বাসিন্দারা পাকা সড়কের অভাবে দুর্ভোগে আছেন এটা আমি জানি। কিন্ত আমি অল্প কয়েকদিন হয়েছে চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব নিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে রাস্তাটি পাকা করার ব্যবস্থা করব।’

স্থানীয় সংসদ ড. আনোয়ার হোসেন খান জানান, রাস্তাটির বিষয়ে আমাকে আগে কেউ অবগত করেনি। সম্প্রতি রাস্তাটির আইডিসহ একটি আবেদন পেয়েছি। এ বছর অবশ্যই সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ