দেলোয়ার হোসাইন, রাংগুনিয়া প্রতিনিধি।
রাংগুনিয়া ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদরাসার উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ মার্চ) সকালে মাদরাসার মাঠে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা অাবু তাহের আল-কাদেরীর সভাপতিত্বে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচী শুরু করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পনের পরে মাদরাসার হলরুমে সহকারি শিক্ষক মোজাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অালোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব জসিম উদ্দীন মুন্সী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক প্রতিনিধি আকতার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুজিবুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মাদরাসার অারবি প্রভাষক এস.এম মঈন উদ্দিন, ইতিহাস প্রভাষক কুতুব উদ্দিন, বাংলা প্রভাষক নিজাম উদ্দিন, অারবি প্রভাষক দিলদার হোসাইন, সহকারি মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা এয়াকুব ,সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, এবতেদায়ী প্রধান ছৈয়দ মুহাম্মদ জাহেদুল হক, জুনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
উপস্থিত অতিথি ও বক্তরা বলেন, ২৫ মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঙালি এই দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলার অবরুদ্ধ রাজধানী ঢাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা দিনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলিত হয়।
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ৪৯তম জাতীয় দিবস। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির মন্ত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার দিন। আজ একইসঙ্গে বেদনা ও আনন্দের দিন। বেদনাকে প্রতিজ্ঞায় পরিণত করে যুদ্ধের শপথ নেওয়ার দিন আজ।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিসত্মানি সামরিক বাহিনী গণহত্যার সূচনা করে। নিরস্ত্র নিরপরাধ বাঙালির বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করে। তখন মুক্তি সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ‘পাকিসত্মান সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানায় ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাসত্মায় রাসত্মায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত্ম যুদ্ধ চালিয়ে যান।’ কোনো আপোষ নাই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করবেন। সকল দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা প্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌঁছে দিন। এভাবে দেশ স্বাধীন হয়।