ইসরাইলের সাথে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ বলছে, হামলার বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা ইরানে হামলার ব্যাপারে এখনো ‘পুরোপুরিভাবে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি’।
এদিকে, বুধবার যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়াল দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
স্থানীয় একজন আলোকচিত্রীর তোলা ছবিতে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স লেকেনহিথ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান উড়াল দিচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি ট্যাংকার বিমানও ছিল।
ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গত তিন থেকে চার দিনে তাদের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে অন্তত ৩০টি যুদ্ধবিমান ইউরোপে সরিয়ে এনেছে। এগুলোর গতিপথের ওপর নজর রাখা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য পর্যালোচনার পর বিবিসি ভেরিফাই বিষয়টিতে নিশ্চিত হয়েছে।
ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাংকারগুলোর মধ্যে অন্তত সাতটি কেসি-১৩৫ স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন বিমানঘাঁটিতে থেমেছে।
তাদের এ পদক্ষেপ আদৌ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাংকার বিমানগুলোর স্থানান্তর করা ‘একেবারেই স্বাভাবিক নয়’।
রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলছেন, সামনের দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে ‘তীব্র সামরিক অভিযানে সহায়তার লক্ষ্যে’ পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে বলে ‘জোরাল আভাস’ পাওয়া যাচ্ছে।
বিবিসি ভেরিফাই যে সাতটি ট্যাংকার জেটের গতিপথ পর্যালোচনা করেছে, সেগুলো ইউরোপের ঘাঁটিতে নামার পর বিভিন্ন দিকে গেছে। মঙ্গলবার বিকালে সিসিলির পূর্ব দিকে এগুলোকে উড়তে দেখা গেছে বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যে দেখা যাচ্ছে।
আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বলছেন, এসব ট্যাংকারগুলো ইরানকে ভয় দেখাতেও মোতায়েন করা হতে পারে।
You must be logged in to post a comment.