গাজায় ইসরাইলের চলমান নৃশংস হামলা এবং মার্কিন মুলুকে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন প্রদেশে হাজারো মানুষ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই গণআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি।
তিন শতাধিক সংগঠনের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে জড়ো হন তৃতীয় স্ট্রিট এনডব্লিউ এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এনডব্লিউ-এর সংযোগস্থলে। সেখান থেকে তারা মিছিল করে যান ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সদর দফতরের দিকে, যেখানে তারা আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং দমন-পীড়নের শিকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দুই নাম- ফিলিস্তিনি কর্মী মাহমুদ খলিল এবং তুর্কি শিক্ষার্থী রুমেসা ওজতুর্ক- যারা এ নিপীড়নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
বিক্ষোভের সহ-আয়োজকদের মধ্যে ছিল ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলন, দ্য পিপলস ফোরাম, ইহুদি ভয়েস ফর পিস এবং অ্যানসওয়ার কোয়ালিশনের মতো অগ্রগামী অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো।
সমাবেশজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় নিহত শিশুদের ছবি, গ্রেফতার ও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পোস্টার বহন করে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক স্বাধীনতার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে সরব হন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই দমনপীড়নকে তারা ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন।
প্রখ্যাত শান্তিকর্মী ও কোড পিঙ্ক সদস্য, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যান রাইট বলেন, গণহত্যাকে খারাপ বলার কারণে যেভাবে শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। তাদের কেউ কেউ আটক হচ্ছেন, কেউ কেউ বহিষ্কৃত হচ্ছেন- এটা মানবতাবাদীদের জন্য ভয়ঙ্কর সঙ্কেত।’
বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাহমুদ খলিল- একজন গ্রিন কার্ডধারী ও সদ্য কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, যিনি গত বছর ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ সংগঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন- বর্তমানে এক প্রতিবাদী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
বে এরিয়ার ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলনের সদস্য সুজান আলী বলেন, ‘প্রশাসনের দমন-পীড়নের মাঝেও আমরা হাজারো মানুষের সাথে একত্রিত হয়েছি। প্রতিটি গ্রেফতার, প্রতিটি হুমকি আমাদের আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করে তুলছে।’
অনেকের জন্য এই প্রতিবাদ ছিল ব্যক্তিগত। ৪০ বছর ধরে ফিলিস্তিন সঙ্কট নিয়ে সোচ্চার জনি নাসেফ বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রে এখন কিছু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা থেমে যেতে পারি না।’
একইভাবে, আরেক বিক্ষোভকারী ড্যানি মুর বলেন, ‘আমি এসেছি গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে, অভিজাততন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানাতে। আমি আর কোনো নিরপরাধ মানুষকে মরতে দেখতে চাই না।’
এই প্রতিবাদ ছিল একটি বৃহৎ কর্মসূচির অংশ- দেশব্যাপী ঘোষিত এক কর্ম দিবস, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও একই সময় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
You must be logged in to post a comment.