শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
এমন এক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ওমর উদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামে।
এই ঘটনার বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রকার সমালোচনার ঝড়। ভারাক্রান্ত মনে কান্না জড়িত কন্ঠে মেয়র বাবা গণমাধ্যমকে জানান, ”আজ থেকে প্রায় দুই বছর পূর্বে আমার পূর্ব পরিচিত পার্শ্ববর্তী হামিজ উদ্দিন ফকির কান্দি গ্রামের মোঃ চাঁন মিয়া ফকির এর ছেলে মামুন ফকির (৩৬) নামে এক লম্পটকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করার জন্য কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। মামুন ফকির বেশ কিছুদিন ভালোভাবে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করেছে এবং নিয়মিত আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করত। আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন তাকে ভালো জানতাম ও বিশ্বাস করতাম। লম্পট মামুন ফকির, আমার পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার বিবাহিত মেয়ে, দুই কন্যা সন্তানের জননী, যার প্রথম সন্তানের বয়স (১৪) ও দ্বিতীয় সন্তানের বয়স (০৪) স্বামী দুবাই প্রবাসী। দুই নাতিনদের পড়াশুনা ও মেয়ের নিরাপদের বিষয়টিকে চিন্তা করে প্রবাসী জামাই এর অনুমতি কর্মে আমার বাড়িতেই থাকত। লম্পট মামুন ফকির, অর্থের লোভে আমার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্ম্পক গড়ে তোলে। যা আমি ও আমার পরিবারের কেউ জানতাম না। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী আমার মেয়েকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে স্বর্ণ-অলংকার, নগদ টাকাসহ আমার বাড়ি থেকে ভাগাইয়া নিয়ে যায়। আমার মেয়ের প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়াইয়া একই তারিখে মামুন ফকির কাবিন রেজিষ্ট্রারীর মাধ্যমে বিয়ে করে।
গত ০৫ই মার্চ আমার মেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমার বাড়িতে চলে আসে এবং আমার কাছে ক্ষমা চায়। শুধু তাই নয় মামুন ফকিরকে তালাক প্রদান করে, দুবাই প্রবাসী স্বামীর তালাক প্রত্যাহার করে এবং বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়, শরীয়তপুরে হাজির হয়ে মামুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী দিলরুবা বেগম এবং আমার মেয়ে একটি হলফনামায় অঙ্গীকার করে যে, মামুন ফকিরকে কখনো স্বামী হিসেবে গ্রহণ করিবে না কিন্তু পরিতাপের বিষয় ১৫ই মার্চ আনুমানিক সকাল ৬.০০টার দিকে মামুন ফকির নগদ টাকাসহ আমার মেয়েকে পুনরায় ভাগাইয়া নিয়ে যায়। বর্তমানে আমার মেয়ে ছোট নাতনিসহ মামুন ফকিরের বাড়িতে বসবাসরত আছে। মামুন ফকিরের বাবা চাঁন মিয়া ফকির, মামুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী দিলরুবা বেগম, আমার মেয়েকে পুঁজি করে এলাকার কিছু ক্ষমতাধর কু-চক্রকারী- ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে এবং বিভিন্ন সময়ে আমাকে ভয়-ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে জাজিরায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজহারুল ইসলাম এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
You must be logged in to post a comment.