মুক্তিযুদ্ধের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কোড়ালতলী গ্রামে আব্দুল জলিল বেপারীর (৭০) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবেশী মোঃ সের আলী সরদার (৭২) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর ভুমি দখলের পাইতারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভুগী সের আলী সরদার গণমাধ্যমকে জানান, ৬৩ নং কোড়ালতলী মৌজার ১৮৩ নং খতিয়ানে এস.এ ৪২৩ নং দাগে ৪০ শতাংশ ভুমি যাহা আমার ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি।
আমার প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আঃ জলিল বেপারী মুক্তিযুদ্ধের দাপট দেখিয়ে উক্ত ভুমিতে মুক্তিযুদ্ধের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জোড় পূর্বক দখলের পায়তারা করছেন এবং মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে আমার সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদ এর চেষ্টা করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন দীর্ঘ দিন যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারীর কৃত কর্মে হয়রানীর শিকার হচ্ছি। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী গণমাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গত ১লা অক্টোবর জাতীয় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা সহ স্থানীয় পত্রিকায় জমির বিরোধে ভেদরগঞ্জে নির্যাতনের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, এই শিরোনামে আমার বিরু্েদ্ধএকটি সংবাদ প্রকাশ করেছে যাহা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী এস.এ-৪২৩ নং দাগে তার কোন সম্পত্তি নেই, সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বিধায় আমি প্রকাশিত সংবাদে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কোড়ালতলী গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউল্লাহ সরদার জানান, প্রায় তিন বছর পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী আমার ব্যক্তি মালিকানা জমিতে অংশীদারিত্ব দাবী করে আমার জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন আমি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি, আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে আব্দুল জলিল বেপারীকে আমার জমি হতে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হই, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারীর কৃত কর্মে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন রিক্সা চালক মোঃ কাওসার হোসেন সরদার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা জলিল বেপারী একদিন আমার রিক্সা চড়ে বাড়ীতে যান এবং বলেন ভাড়াটা পরে দিব, কিছু দিন পরে জলিল বেপারীর কাছে ভাড়া চাইতে গেলে, সে আমার সাথে উচ্চ বাক্য করেন এবং চর থাপ্পর মারার হুমকি দেয়, তাই আমি এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারীকে দেখলে অন্য দিকে পাশ কেটে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী ছোট ভাই আব্দুল কাদের ওরফে আবুল বেপারী জানান, আমার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী, আমার পিতা মৃত শিকিম আলী বেপারী বার্ধক্য জনিত কারণে দীর্ঘ দিন অসুস্থ্য থাকা কালীন অবস্থায় চিকিৎসা করানোর কথা বলে ভেদরগঞ্জ নিয়ে আমার পিতার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে আমার দুই বোন ও আমাকে বঞ্চিত করে, তার দুই ছেলের নামে জমি লিখে নেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী একজন প্রতারক ও ভন্ড।
প্রতিবেশী মোঃ সের আলী সরদারের জমিতে মুক্তিযুদ্ধের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জমি দখলের পায়তারার বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সের আলী সরদারের জমিতে সাইনবোর্ড ব্যবহার করি নাই। ৬৩নং কোড়ালতলী মৌজায় এস.এ ৪২৫ নং দাগে আমি ও আমার স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে ১০ শতাংশ জমি বন্দোবস্তো নিয়েছি। বন্দোবস্তো নেওয়া জমিতে আমি সাইনবোর্ড ব্যবহার করেছি । ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও রামভদ্রপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৬৩নং কোড়ালতলী মৌজার এস.এ ৪২৫ নং দাগে সরকারি খাল ও রাস্তা থাকার কারণে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল বেপারী ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে দেওয়া বন্দোবস্তো কৃত জমি বাতিল বলে ঘোষনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
You must be logged in to post a comment.