মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম।।
বেসরকারি শিক্ষকদের চাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ, সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য সতন্ত্র স্কেল নির্ধারণ এবং পৃথক পিএসসি প্রতিষ্ঠা করা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষাধিক। শিক্ষকরা শুধু ভোটার হিসেবে নয়, ভোটগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। অথচ শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব নেই রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকারের বিগত ১০ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২.৪ শতাংশেরও কম। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো এত কম বরাদ্দে ৫ কোটির বেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কথা চিন্তাও করতে পারবেনা। শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের প্রধান অংশীদার শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কৌশলী আমলাদের বিদ্বেষী মনোভাবে সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিশাল বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বেসরকারি শিক্ষকদের জোরালো দাবি, একযোগে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের। জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি’১৮ থেকে ২৯শে জানুয়ারি’১৮ অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করে, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি লিঁয়াজো ফোরাম। প্রচন্ড শীতে জাতি গড়ার কারিগররা প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় ২০ দিন রাত্রি যাপনই প্রমাণ করে শিক্ষকদের বঞ্চনা বৈষম্য কতটা প্রকট।
আজকে ৫ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিরা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে, একযোগে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণার। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা দেশের অন্যতম বৃহৎ অরাজনৈতিক পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে কথা বলি, আমরা দক্ষ জনশক্তি, মানবসম্পদ তৈরির দায়িত্ব পালন করছি। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষকদের অবদান অগ্রগণ্য। শিক্ষাব্যবস্থার ৯৭ শতাংশ গুরুদায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ। শিক্ষকদের অমর্যাদা, অসম্মান, নিরাপত্তাহীন এবং অভুক্ত উদরে রেখে মানন্নোত শিক্ষা অসম্ভব। শিক্ষায় যত সমস্যা তা দূর করতে হলে, শিক্ষকদের সকল সমস্যাবলী সর্বাগ্রে দূর করতে হবে। সকলের শুভ বোধ জাগ্রত হোক এ প্রত্যাশায়।
লেখক
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম
ঢাকা বাংলাদেশ।
You must be logged in to post a comment.