বিজয়ের স্মৃতি কথা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৭:৪০ অপরাহ্ন

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম।।

প্রতিটি পরাধীন জাতিই অনুভব করতে পারে কতটা ত্যাগ-তিতীক্ষা, লড়াই -সংগ্রামের মধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার  মাহাত্ম্য কতটা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি কত রক্ত ঝরিয়ে, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে, আত্মাহুতির বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন, নিঃসন্দেহে গৌরবের এবং অহংকারের। বাঙালি জাতির ডিসেম্বর মাস, সেই বিজয়গাথা গৌরবের মাস আত্মপ্রকাশের মাস এবং ২৪ বছরের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হওয়ার মাস। এই মাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আনন্দ-গৌরব আর অহঙ্কার, মহিমা, গর্বের আর কষ্টের, বেদনার আর মহা ত্যাগের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা। বিজয়ের এই মাসে শ্রদ্বাভরে স্বরণ করছি, সম্ভ্রম হারানো, যুদ্ধাহত এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের মাস ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির শতবর্ষের শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় মাস ডিসেম্বর। বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখন্ড আত্মপ্রকাশ গৌরবদীপ্ত এই মাসেই। তাইতো শিল্পীর আবেগময় ছন্দের গান- রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, আমার বাংলাদেশের নাম।

স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন  যাঁরা, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী সাংবাদিক, কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-আলোকচিত্রী স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাদের প্রত্যেকের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করছি।

আজ থেকে ঠিক ৪৭ বছর আগে এই বিজয়ের মাসের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকহানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য উদিত হয়েছিল। বিশ্বের মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয় ঘটেছিল লাল-সবুজের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, নির্বিচারে হত্যা করে, নিরস্ত্র নিরীহ অগণিত বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ছাত্র, যুবক, নারী-পুরুষ, রোগী এমনকি অবুঝ শিশুও নির্মম অত্যাচার ও নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছিল। সেই নিষ্ঠুর অমানবিক হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার মানুষের ভাগ্যাকাশে নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা। পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যুলুম-নির্যাতন, নির্মমতা পৈশাচিক নিষ্ঠুরতা সীমারের নিষ্ঠুরতাকেও হার মানিয়েছিল।

শুরু থেকেই পাকিস্তানি শাসকরা অন্যায়ভাবে গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাকে উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠের ওপর সংখ্যালঘিষ্ঠের শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল। বাঙালির যে কোন দাবিকে বলপূর্বক দমনের পথ বেছে নিয়েছিল তাঁরা। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অপমানকর মন্তব্য করেছে বিভিন্ন সময়। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবশেষে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে বীর বাঙালির সাহসী সন্তানেরা। সুদীর্ঘ রক্তাক্ত প্রান্তর অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধের এ অবিস্মরণীয় কাংখিত বিজয় অর্জন ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি।

বিজয়ের এই মাসে শ্রদ্বাভরে স্বরণ করছি সেই অকুতোভয় বীর শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের, তোমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা এবং লাখো কোটি সালাম।

“এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবো না”।

 

লেখক

সভাপতি

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম

ঢাকা, বাংলাদেশ।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ