বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইনফ্লুয়েন্সারের নাম তাসনিম জারা

পারমিতা হিম
বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ৯:১৪ অপরাহ্ন

সাধারণ মানুষের কাজে আসে, উপকার হয় এবং ভবিষ্যত নির্মাণে প্রভাব রাখে এরকম ভিডিও বাংলাতে খুব কম মানুষকে তৈরি করতে দেখি।

তাসনিম জারার মত মেধাবীরা যে ইন্টারনেটকে জ্ঞান ও তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহার কত মানুষের স্বাস্থ্য পরিচর্যা বদলে দিয়েছে এটা বোঝার ঘিলু অন্যের লেখা কপি করা ব্লগারদের নাই।

এই একটা কথা

“যে স-হ-বা-স শেখায় সে শেখাবে রাজনীতি?”

একশত পেইজ থেকে পোস্ট হতে দেখলাম। দেখেন এরা পোস্ট লিখতেও শেখেনি, কারো কাছ থেকে কপি করেছে।

আর স-হ-বা-সও এরা শিখবে, কপি করবে তবে সানি লিওনির কাছ থেকে।

ছাত্ররা যেদিন রাজনৈতিক দল করার ঘোষণা দিলো সেদিন থেকে আমি মনে মনে ভাবছিলাম তাসনিম জারার মত শিক্ষিত মেয়েদেরকে দলে না নিলে এইসব দল কাউকে আকর্ষণ করতে পারবে না। (আমাকে তো নাই-ই)।

যেদিন তাসনিম জারার নাম রাজনৈতিক দলে দেখলাম সেদিন খুব ভালো লেগেছে।

সত্যি বলতে বাংলাদেশে গিয়ে যা দেখলাম তা খুবই লজ্জার। বুড়ো ভামরা কিভাবে তরুনদের বেচে দিয়ে ডুবে ডুবে পয়সা খেতে পারে এ চেষ্টায় বিভোর। আর তরুণরা দিশাহারা, সঠিক নির্দেশনার যথেষ্ট অভাব আছে।

যে কোনো সমাজে তরুণদের জীবনের বিনিময়ে এরকম বদল ঘটলে সমাজের বুড়োরা তাদের জান প্রাণ পেতে আসতো তরুণদের স্বপ্ন বিনির্মাণে। আর বাংলাদেশে হয়েছে উল্টো।

একটা লোককেও দেখলাম না এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোকে একটা ভালো পরামর্শ দেয়। গাইড করে। কিংবা ন্যুনতম সহযোগিতা করে।

যেটা করে সেটা হলো উল্টোটা। ব্যবহার করা, অপদস্থ করা, নানাভাবে বাধা দেয়া এবং সমালোচনা করা।

এটা একটা সামাজিক লজ্জার বিষয়। কিন্তু আমরা সেটা বুঝবো না। বোঝার জ্ঞান বা মগজ কোনোটাই আমাদের নাই।

বিভিন্ন খাতে যারা বিশেষজ্ঞ, আমি চাই তারা আরো বেশি বেশি ইউটিউবে আসুক। এবং তাদের জ্ঞান সমাজে ছড়িয়ে দিক।

আর শিক্ষিত মেয়েরা আসুক রাজনীতিতে। আরো আরো আরো বেশি। বাংলাদেশ বদলাতে পারবে এরাই।

কারণ আগামীর দুনিয়াতে রাজনীতি মেয়েদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এর একটা কারণ ছেলে ও মেয়ের ভিন্ন প্যারেন্টিং।

ছেলেদেরকে কাজের কাজ কিছুই শেখায় না বেশিরভাগ বাপ মা। ভাবে লিঙ্গটাই ওর জন্য যথেষ্ট।

অন্যদিকে মেয়ের যেহেতু মেয়ে জন্মই একটা “ঘাটতি” (সমাজের চোখে), সে ঘাটতি পূরণে মেয়েদেরকে যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি, দক্ষতা তেমনি রুচিবোধ, প্যাশন আর পরিমিতির শিক্ষা দিতে বাবা মা বেশ তৎপর।

দক্ষিণ এশিয়ায় (ইনডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বিশেষ করে) দেখবেন একই সুযোগ সুবিধা পেয়ে বড় হওয়া মেয়েটি ছেলের তুলনায় কয়েক ধাপ উপরে থাকে। এর কারণ সমাজের ওই ধরাবাঁধা ধারণা।

ছেলেদের কিছুই শিখতে হবে না, আর মেয়েদের সব শিখেও লাভ হবে না। চরিত্র নিয়ে কথা বললেই সব শেষ!

এইসব সমাজের এক্সপায়ারড ডেইট শেষ হয়ে গেছে। ভবিষ্যত দুনিয়া যোগ্যদের। ছেলে হোক, আর মেয়ে।

আরো ১০ টা তাসনিম জারা দেশে থাকলে দেশটার চেহারাই বদলে যেত।

তাসনিম জারা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান কনটেন্টের জন্য। অশেষ কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য।

আপনাকে ভবিষ্যত স্বাস্থ্যমন্ত্রী কল্পনা করি। আপনার আরো কল্যাণ হোক। আপনার কল্যাণ বাংলাদেশের কল্যাণ।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ