বরগুনায় যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন!

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

জসীম উদ্দিন, বরগুনা।।

যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন বরগুনার আমতলীতে যৌতুক না পেয়ে মনিরা আক্তারকে নির্যাতন করে স্বামী নুর মোহাম্মদ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে তালতলীর পাঁচশোবিঘা এলাকার হোসেন মিয়ার ইঁটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

আমতলী থানা পুলিশ গৃহবধু মনিরার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করে। এছাড়া মনিরার স্বামী নুর মোহাম্মকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বরগুনার সদর উপজেলার ছোট লবনগোলা গ্রামের মোঃ কামাল হাওলাদার মেয়ে মনিরা আক্তারের সঙ্গে আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া গ্রামের ছত্তার মোল্লার ছেলে নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করে আসছিলো। গত বছরের মার্চ মাসে পরিবারের অসম্মতিতে দুজনে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে মনিরা তার স্বামী নুর মোহাম্মদের বাড়িতে অবস্থান করে। গত তিন মাস আগে স্বামী নুর মোহাম্মদ তালতলী উপজেলার পাচশোবিঘা গ্রামের হোসেন মিয়ার ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ নেয়।

ওইখানে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী মনিরাও থাকতো। বিয়ের পর থেকে স্বামী নুর মোহাম্মদ যৌতুকসহ বিভিন্ন অযুহাতে স্ত্রী মনিরাকে মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে করায় মনিরা এ নির্যাতনের কথা কাউকে জানায়নি।

নিরবে সহ্য করে আসছিলো সে। গত এক মাস ধরে স্বামী নুর মোহাম্মদ স্ত্রী মনিরাকে মায়ের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। হত-দরিদ্র মনিরার মা তালাকপ্রাপ্ত আসমা বেগম এ টাকা দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে মনিরাকে প্রায়ই নুর মোহাম্মদ নির্যাতন করে আসছিলো বলে এমন অভিযোগ মা আসমা বেগমের।

মায়ের কাছ থেকে টাকা না আনায় ঘটনার দিন দুপুরে মনিরাকে স্বামী নুর মোহাম্মদ অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও নির্যাতন করে। ওইদিন সন্ধ্যায়ই ঘরের মধ্যে মনিরার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ সময় ওই ঘরে স্বামী নুর মোহাম্মদ ও স্ত্রী মনিরা ছাড়া আর কেউ ছিলো না।

পরে নুর মোহাম্মদ মনিরাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে এনে নুর মোহাম্মদ কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানায়, ঘুমের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। অনেক চেষ্টা করেও জ্ঞান ফিরছে না। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকদের তার কথায় সন্দেহ হয়।

পরে তারা মনিরার গলায় আঘাতের চিন্হ দেখে এবং তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মনিরার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং স্বামী নুর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখে। সোমবার মনিরার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণা করা হয়। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে নুর মোহাম্মদ পুলিশকে জানায়, মনিরা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

নিহত মনিরার মামা মিন্টু মিয়া অভিযোগর, আমার ভাগ্নিকে ওর স্বামী নুর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

নিহত মনিরা মা আসমা বেগম বলেন, গত এক মাস পূর্বে জামাতা নুর মোহাম্মদ আমার মেয়ের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা যৌতুক চায়। আমি এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার মেয়েকে নুর মোহাম্মদ নির্যাতন করেছে। ঘটনার দিন আমার মেয়ে আমাকে টাকা না দেয়ায় নির্যাতন করেছে বলে মোবাইল ফোনে জানিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ তারান্নুম মেহযাবিন বলেন, মনিরার স্বামী নুর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকে হাসপাতালে এনে জ্ঞান হারিয়েছে বলে আমাকে জানায়। কিন্তু আমার তার কথায় সন্দেহ হয়। পরে মনিরার শরীর পরীক্ষা করে দেখি তার গলায় আঘাতের চিন্হ রয়েছে এবং মনিরার মৃত্যু হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, মনিরার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ