প্রেমিক সেনা সদস্য শিমুলের পরিবারের প্রতিশ্রুতিতে নিজ বাড়ি  ফিরে এলো অনশনকারী প্রেমিকা  রাজিয়া

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮, ৩:৪২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহের  কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে সারা দিন ধরে অনশন করেছে প্রেমিকা রাজিয়া খাতুন (২১) নামের এক তালাক প্রাপ্তা যুবতি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে অনশন ভঙ্গ করে প্রেমিকা রিজিয়া। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যদি বিয়ে না করে তাহলে প্রেমিকের বাড়িতেই আত্মহননের হুমকি দিয়েছে প্রেমিকা। সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘোটেছে । জানা যায়, বিয়ের দাবিতে অনশন করা প্রেমিকা রিজিয়া খাতুন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে। প্রেমিক সেনা সদস্য শিমুল হোসেন একই গ্রামের মোঃ শহিদের ছেলে। প্রেমিকাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরিবারের ভয়ে মেনে নিতে পারছে না প্রেমিক সেনা সদস্য শিমুল হোসেন নামের যুবক। রিজিয়া খাতুন শিমুলের কাছে একাধিক বার বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিভিন্ন কৌশলে শিমুল এড়িয়ে যায় এবং তালবাহানা শুরু করে। রিজিয়া বুঝতে পারে শিমুল তাকে বিয়ে না করার জন্য এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে তখন সে এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়। রিজিয়া শিমুলের বাড়িতে অনশনের খবর পেয়ে শিমুল বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন জড়ো হলে মেয়েটি তার প্রেমের বিষয়টি তুলে ধরে। খবর পেয়ে  স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করে। মেয়েটি বাড়ি ফিরে যেতে অস্বীকার করলে প্রেমিক শিমুলের বাবা এবং আত্বীয় স্বজন রিজিয়া ও তার বাবার কাছে ১০ দিনের সময় নিয়ে রিজিয়াকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, প্রেমিক শিমুলের পরিবার, প্রেমিকা রিজিয়ার পরিবার এবং এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য লোকজনের উপস্থিতে রিজিয়াকে শিমুলের সাথে ১০ দিনের বিয়ে দেবে এমন প্রতিশ্রুতির সিদ্ধান্ত হয়। রিজিয়া সাংবাদিকদের জানায়, এর আগে আমারষএকটা বিয়ে হয়েছিল সেখান থেকে শিমুলের কারনে ডিভোর্স হয়ে যায়। শিমুল আর আমার সম্পর্ক প্রায় ৫/৬ বছর। শিমুলই অনেক দিন ধরে আমাকে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দেয় কিন্তু আমি আগে তাকে পাত্তা দিতাম না। পরে সে আমাকে বিভিন্ন প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে এবং বলে আমি সেনা বাহিনীতে চাকুরী করি আমি তো বেকার না। যদি আমার পরিবার তোমাকে মেনে না নেয় তাহলে আমি তোমাকে নিয়ে চলে যাবো। শিমুল আমাকে বলে আমি চেষ্ঠা করবো আমার পরিবার যাতে তোমাকে মেনে নেয়। সে আরো জানায়, শিমুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে আমাকে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও যশোরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো এবং আমরা একই সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। প্রায় ৩/৪ বছর ধরে আমার সাথে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এখন যদি এই ১০ দিনের মধ্যে শিমুল আমাকে বিয়ে না করে তাহলে আমি শিমুলের বাড়ি যেয়ে আত্মহত্যা করবো। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা(ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ