প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করছেন প্রভাবশালী একটি কুচক্র মহল। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে পদ্মার পাড়ের বসবাসরত হাজারও লাক্ষো মানুষের ঘর-বাড়ী ও ফসলি জমি। নদী ভাঙ্গনের আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মনে।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, পালেরচর ইউনিয়নের চর লোজং মৌজার বিভিন্ন চর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে, পালেরচর, আকিয়াদল, রামনেওয়াল, নওয়াপাড়া, কুন্ডেরচর, নাইকলপারিয়া, বড়কান্দি ও খলিফাকান্দি মৌজার ফসলি জমিসহ বসবাসরত ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কুন্ডেরচর ইউনিয়নে বাবুরচর ও সিডারচরে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় এনে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হউক। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তি পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের স্থানীয় প্রভাবশালী আলতাফ খান ও মামুন খান। মামুন খানের কাছে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার জিয়া উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের সরকারী অনুমতি নিয়েছে, জিয়া উদ্দিনের নির্দেশক্রমে আমরা বালু উত্তোলন করছি।
পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী কুচক্র মহলের মূল হোতা জিয়া উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার কোন সাক্ষাৎ মেলেনি। পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি নেই। আমি থাকাকালীন অবস্থায় ভবিষ্যতে কাউকে অনুমতি দেয়া হবে না।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’কে বিষয়টি অবগত করা আছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের’কে আইনের আওতায় আনা হবে।
You must be logged in to post a comment.