মনপুরা (ভোলা )প্রতিনিধি ।।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। এদের মধ্যে মো.মিজানুর রহমান নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ মনপুরায় দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়াও শতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
অপরদিকে মনপুরার আরও এক ছাত্র লোকমান গুলিবিদ্ধ হয়ে চরফ্যাশন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান ওই ছাত্রের পিতা মোজাম্মেল ক্বারি। ভোলায় ময়নাতদন্ত শেষে ২১শে অক্টোবর(সোমবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় নিহত মিজানের লাশ মনপুরায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পরে দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট বাজারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র মো. মিজানুর রহমান (১৭) মনপুরা উপজেলা হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা । মো: হারুন মিস্ত্রির ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নিহত মিজানুর রহমান সবার বড়।
পুলিশের গুলিতে আহত অপর এক মাদ্রাসার ছাত্র লোকমানের (১৭) বাড়ি একই গ্রামে।
জানা গেছে, নিহত মাদ্রাসা ছাত্র মিজানুর রহমান ও গুলিবিদ্ধ লোকমান বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা মহিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার কিতাব বিভাগের শরহে জামি শ্রেণীর ছাত্র ।
নিহত ছাত্রের জানাজায় বক্তব্য রাখেন হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক, ইমাম সমিতির সভাপতি মাও. মফিজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনপুরা শাখার আহ্বায়ক মাও. মুফতি এনায়েত উল্লা, হাজিরহাট বাজার মার্কাস জামে মসজিদের ইমাম মুফতি ইউসুফ, দেউলা মহিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাও.আশ্রাফ আলী, যুবলীগ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, হাফেজ আবদুল মতিন, হাজি মাহবুব, মুফতি মাকছুদ, হাফেজ মাকছুদ। এই সময় বক্তারা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মনপুরা থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমানের লাশ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ সমাবেশে জনতা ও পুলিশের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।।
You must be logged in to post a comment.