পিতার পরিচয় জানতে চায় শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশি নগর ইউনিয়নের দুই বছরের শিশু কন্যা মীম আক্তার। সৃষ্টি কুলের সেরা জীব মানুষ। মানুষ নিষ্পাব হয়ে পৃথিবীতে আসে, কাউকে দিওনা দোষ, পিতা ও মাতার দোষে, তবুও এই ঘটনার বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রকার সমালোচনা।
সরজমীন ঘুরে ভোক্তভুগী শিশু কন্যার মা ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায় যে, প্রায় তিন বছর পূর্বে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৭৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মানের কাজ করতে আসে নির্মান শ্রমিক ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে ২ নং ওয়ার্ডে চর নারায়নপুর গ্রামের মোঃ সুলতান পেদার ছেলে জাহাঙ্গীর পেদা (২৫) এবং একই গ্রামে মোঃ দুলু বেপারীর ছেলে আব্বাস বেপারী (২৬)। দুই বন্ধু মিলে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন শিশু কন্যার নানা বাড়িতে।
কিছু দিন পরে জাহাঙ্গীর পেদা বিয়ের প্রস্তাব দেয় শিশু কন্যার মাকে। জাহাঙ্গীর ও আব্বাস দুই বন্ধু অসৎ উদ্যেশ্যে শপিং করে দেওয়ার কথা বলে শিশু কন্যা মীম আক্তারের মাকে অটোযোগে নিয়ে যায় গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের মাইজারা বাজারে, বিকাল শেষে সন্ধা গড়িয়ে আসলে বাড়ি ফেরার কথা বলে জাহাঙ্গীর ও আব্বাস শিশু কন্যার মাকে নিয়ে যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ডি.এম খালী ইউনিয়নে আব্বাস বেপারীর এক আত্মীয়র বাড়িতে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোর পূর্বক পালাক্রমে ধর্ষন করে শিশু কন্যার মাকে। এই ঘটনার কিছু দিন পরে, নির্মান শ্রমিক আব্বাস বেপারী বিয়ে করেন শিশু কন্যার মায়ের বান্ধবীকে। খোজ খবর নিয়ে দেখা যায়, এই বিয়ে হলো আব্বাস বেপারীর তৃতীয় বিয়ে।
এমতাবস্থায় জানা যায় যে, শিশু কন্যার মা পাঁচ থেকে ছয় মাসের অন্তসত্বা। এই সংবাদটি ছড়িয়ে পরে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মাঝে। জাহাঙ্গীর ও আব্বাস নিজেদেরকে বাঁচাতে নানা প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়, শিশু কন্যার মাকে। আব্বাস বেপারীর স্ত্রী ও শশুর বাড়ীর লোকজন মিলে বলতে বাধ্য করে শিশু কন্যার মায়ের ছাত্রী জীবনের প্রেমিক সাকিল দেওয়ানই শিশু কন্যার বাবা। সাকিল বিষয়টি অস্বীকার করলে সামাজিক চাপে পরে বিয়ে করে শিশু কন্যার মাকে। শিশু কন্যা জন্ম গ্রহণ করার পর, শাকিল দেওয়ান শিশু কন্যা ও তার মাকে মেনে না নেওয়ার কারনে, শিশু কন্যার মাকে আবারও বাধ্য করা হয় সাকিল দেওয়ানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্য। শিশুর কন্যার মা বাদী হয়ে ১৬-৩-২০২০ ইং তারিখে সখিপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-০৪, জি.আর.নং-২৭/২০২০ খ্রিঃ।
শাকিল দেওয়ান নিজকে নির্দোষ প্রমানিত করার উদ্যেশ্যে আদালতে ডি.এন.এ পরীক্ষার অনুমতি প্রার্থনা করলে আদালত অনুমতি প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। ডি.এন.এ পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায়, বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখিপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ সবুর মিয়া জানান বাদীর পুনারায় জবানবন্দী ও আবেদনের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর ও আব্বাস বেপারী ডি.এন.এ পরীক্ষার জন্য আদালতে অনুমোতি প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালত সখিপুর না মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আব্বাস বেপারীর শশুর মাকলা আকন, শাশুরী সাজেদা বেগম গং ব্যক্তিরা, শিশু মীম ও তার মায়ের পরিবারের লোকজনকে নানা প্রকার হুমকি ধমকি দিচ্ছে ও বিভিন্ন ইস্যুতে মারপিট করতে আসে বলে জানিয়েছে। অভিযুক্ত আব্বাস বেপারী ও জাহাঙ্গীর বেপারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের কোন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
You must be logged in to post a comment.