তৃষিত তিস্তা
–নাসরিন পাঠান
দাঁড়িয়ে গেলাম,
সমুদ্র,তুমি দেখো আমি দাঁড়িয়ে গেলাম
দাঁড়িয়েই রইলাম একবুক বিতৃষ্ণা নিয়ে।
আবেগে,উদ্বেগে,উচ্ছ্বাসে,উল্লাসে
ভালোবাসার প্রবল টানে আর কখনো-ই ছুটবো না
দিনরাত ছুটে-ছুটে তোমার নিকটে পৌঁছে
আর কোন কষ্টের বদ্বীপ হতে আসবো না।
প্রকৃতির অভিধানে এবার নতুনকিছু যুক্ত হবে!
আমার যে-হাত প্রেমের কথা লেখে
সে-হাত অধিকার আদায়ের কথাও লিখবে
লিখবে সমতার কথা।

তারই ধারা বজায়ে এবার তোমাকে আসতে হবে
তোমাকেই ছুটতে হবে সমুদ্র!
ভাবছো তোমায় শাসাচ্ছি!
না,এমনটিও ভেবো না যেন!
কেবলি বলি রীতির খেলায় অন্ধ থেকো না
করো না শাসনের নামে অরাজকতা।
আমার যত মান-অভিমান তার সবটুকু জমে-জমে ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের কৃত্রিম পাহাড়গুলোর মতো হয়েছে।
সেখানে নিয়ত রোপন হচ্ছে বাহারি ফুলের নয়
অনীহার চারাগাছ।
অঙ্কুরিত হতে চলেছে ঘৃণার বীজ
তার সবই কচুরির মতো ভাসিয়ে দিতে
তুমি সুনামি-সিডর হয়েই এসো!
তোমার বিশালতা-তো কেবল বিস্তর জলরাশিতে-ই নয়;
গভীরতায়ও গভীর তুমি!
তোমার লোনাজলেও রত্ন বাঁচে
সে রহস্য না হয় রহস্য-ই থাক
আমি তার উদঘাটনে কখনোই আসবো না
তবু তুমি এসো সমুদ্র!
তুমি এসো!
যদি চীনের মহাপ্রাচীরও এসে সামনে দাঁড়ায়
তাকে এক থাবায় গুড়িয়ে দিয়ে তুমি এসো!
একবার এসে পূর্ণ করে যেও
চৈত্রখরায় শুকিয়ে যাওয়া তিস্তাকে!
You must be logged in to post a comment.