ময়মনসিংহের নান্দাইলে পুলিশের পোশাক পড়ে হত্যা মামলার আসামী বলে বাবা-ছেলেকে অপহরণ করার সময় দুইজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় তাদের সহযোগী একজন পুলিশের পোশাক ফেলে পালিয়ে যায়।
আটককৃত দুজন হলেন, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার রাওতারা মহিষ বাজার গ্রামের শামছুল হকের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩০) ও নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার টেংরাপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আকাশ (৩৫)। আর পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হচ্ছে নান্দাইলের গাংগাইল ইউনিয়নের মৃত গোমেদ আলীর ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩০)।
সোসবার (৩১ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বড়াইল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাত আটটার দিকে উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক মো. বরকত উল্লাহ (৫৫) তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে মো. আশরাফুল ইসলামকে (১৬) নিয়ে পাশের তাড়াইল উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। গ্রামের রাস্তা থেকে নান্দাইল-তাড়াইল পাকা সড়কে উঠলে ইজিবাইকটি ছেলের হাতে দেন চালিয়ে নেওয়ার জন্য। বড়াইল নামক স্থানে যেতেই একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৯-০২২৯) পথরোধ করে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে বরকত উল্লাহ বলেন , এ সময় প্রাইভেটকার থেকে পুলিশের পোশাক পড়া একজন লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে তোর নামে হত্যা মামলা আছে, থানায় যেতে হবে। এ কথা বলে আমাকে ও আমার ছেলেকে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। গাড়ির ভিতরে আমরা প্রতিবাদ করলে আমাকে রড দিয়ে আঘাত করে। এ সময় চিৎকার দিলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস প্রাইভেটকারটিকে আটকে দেয়। পরে দৌঁড়ে পালানোর সময় বাসের যাত্রীরা এবং স্থানীয়রা দুইজনকে ধরে গনধোলাই দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ দুই ছিনতাইকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নান্দাইল থানার ওসি (তদন্ত) আবুল হাসেম বলেন, এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে নান্দাইল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে।
তিনি আরো বলেন, আহত বরকত উল্লাহ নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। আটককৃত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও জব্দকৃত গাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক জব্দ করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
You must be logged in to post a comment.