নতুন দল জানাকে থাকছেন না জুনায়েদ ও রাফে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ৪:৫৫ অপরাহ্ন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুজনই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। জুনায়েদ জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রিফাত যুগ্ম সদস্য সচিব।

আগামী শুক্রবার জানাকের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া দলটির আহ্বায়ক হতে যাচ্ছেন সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলাম। সদস্যসচিব হচ্ছেন আখতার হোসেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে প্ল্যাটফর্ম গড়ে গত ১ জুলাই আন্দোলনে নামেন। হাসিনা সরকারের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও রাজপথে নামেন। আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। এক পর্যায়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্বাবাদী শাসনের অভাবনীয় পতন ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্রশক্তির নেতারা সামনের সারিতে থাকলেও শিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাও ছিলেন। রাজনৈতিক দল গড়তে ৮ সেপ্টেম্বর গঠন করা জানাকেও বিভিন্ন মতধারার সাবেক নেতারা রয়েছেন। ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, অধিকার পরিষদ এবং কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও বাম সংগঠন থেকে আসা নেতারা নিজ বলয় থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করার চেষ্টা করছেন।

নতুন দলের পদ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকে অভ্যুত্থানের কৃতীত্ব নিয়ে চলতি মাসে বিরোধে জড়ান ছাত্রশক্তি ও শিবিরের সাবেক নেতারা। সামাজিক মাধ্যমে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেখেন। অতীতে শিবির সংশ্লিষ্টতার কারণে নতুন দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন অনেকে। একে আওয়ামী লীগ আমলের শিবির ট্যাগ দিয়ে নিপীড়নের মতো কাজ বলে অভিযোগ তাদের।

বিরোধ মেটাতে আলী আহসান জুনায়েদকে নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হচ্ছে বলে সপ্তাহখানেক ধরেই শোনা যাচ্ছে জানাক সূত্রে।

গত সোমবার জুনায়েদ, রাফে চীন সফরে যান। তাঁরা অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতা হিসেবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে চীন গেলেও, জানাক আপত্তি তোলায় সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। সোমবার মধ্যরাতে জানাক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় জুনায়েদ ও রিফাতের সফরের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক নেই।

জানাকে থাকা সাবেক শিবির নেতারা জানিয়েছেন, এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অপমান করায় সমঝোতার সব সম্ভাবনা শেষ। যদিও নাহিদ ইসলাম চেষ্টা করছিলেন জুনায়েদসহ শিবিরের সাবেক নেতাদের ধরে রাখতে।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে আলী আহসান জুনায়েদ ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না৷ সে কথা আমি আরও সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদের। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের ওপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই স্পষ্ট করে রাখছি।’

জুনায়েদ আরও লেখেন, ‘দুঃখজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরও ট্যাগিং ও ট্যাবুর রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি এই দলের মাধ্যমে শুরু হোক, এই প্রত্যাশাই করি। আশা করি, অভ্যুত্থানের সময়ে আমাদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল, নতুন রাজনৈতিক পথচলায়ও আমাদের পারস্পরিক এই সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন দল, নাহিদ ইসলাম ও নব নেতৃত্বের জন্য শুভকামনা রইল।’

আজ বুধবার ভোরে জুনায়েদের পোস্টটি শেয়ার করে রাফে সালমান লিখেছেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না। তবে আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না৷ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল, তাতে শর্ট টার্মে খুব ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি না আপাতত। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে রাখি যে রাজনীতি একটা লম্বা রেইস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদের এই রেইসে টিকে থাকতে হবে।’

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ