প্রথমবারের মতো নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ সূর্যমুখীর গাছেই ফুল ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রানীনগর উপজেলার মধ্যরাজাপুর সহ বিভিন্ন স্থানে ২শ’ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় এই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন কৃষকেরা। একঘেয়েমী ধান চাষ করে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হচ্ছেন না। ধান চাষ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকার ধান পাওয়া যায় না। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭মণ থেকে ১০মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ লিটার থেকে ২০০লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের বাজার মূল্য সর্বনিম্ন ২৫০টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্য তেলের আকাশ ছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের। এছাড়া সূর্যমুখী ফুলের তেল অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অন্যান্য তেলের চেয়ে অনেক উপকারী ও স্বাস্থ্য সম্মত।
মধ্যরাজাপুর গ্রামের কৃষক নুরুল হক নয়ন জানান, গত বছর অন্যের কাছ থেকে সূর্যমুখী ফুলে বীজ নিয়ে অল্প পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে আমি অনেক লাভবান হয়েছিলাম। তাই চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ১শ’ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি, এছাড়া লাভজনক ফসল হওয়ায় আগামী বছর আমি ১০বিঘা জমি লিজ নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করবো বলেও ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলেও জানান নুরুল হক নয়ন। তিনি আরো বলেন, আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষকরা সূর্যমূখী ফুলের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অপর কৃষক মাসুদ রানা বলেন, নয়নের দেখাদেখি চলতি মৌসুমে আমিও কিছু জমিতে আবাদ করেছি। তবে আগামী বছর কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ধানের পরিবর্তে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করবো। এটি শুধু একটি ফসলই নয় জমিতে এসে অনেক মানুষ বিনোদনও নিচ্ছে। আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের জমিতে এনে ছবি তুলে আনন্দ নিচ্ছেন যা দেখেও ভালো লাগছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। অলিভ ওয়েলের পরেই সূর্যমুখী তেলের অবস্থান। সোয়াবিন ও সরিষা ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণ করবে সূর্যমুখী তেল। বেশি লাভজনক ফসল সূর্যমুখী। আগামীতে এই উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে ও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
You must be logged in to post a comment.