ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ ৫১ হাজার টাকা-সেই টাকাও মাতব্বরের পকেটে

নওগাঁ প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
প্রতীকী ছবি

ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ ৫১ হাজার টাকা-সেই টাকাও মাতব্বরের পকেটে.?

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়ন পরিষদে বসা এক শালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের একটি ঘটনা নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার টাকা।  মঙ্গলবার রাতে ১১টারদিকে চেয়ারম্যানের কক্ষে এই শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শালিসের আয়োজন করেন কশব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল জব্বার। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবাদ সংগ্রহকালে জরিমানার টাকা পৌঁছায়নি ভুক্তভোগী ধর্ষীতা নারীর হাতে। সমুদয় টাকা রয়েছে ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল জব্বারের কাছে।

স্থানীয়রা জানান, মামুনুল ইসলাম ওরফে মামনুর নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত রবিবার মান্দা থানায় এজাহার দেন ভুক্তভোগী এক নারী। মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মান্দা থানার এসআই অর্জুন কুমার। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন মহলে তদবির শুর করেন। যার কারনে সংবাদ সংগ্রহ পর্যন্ত রেকর্ডভুক্ত করা হয়নি ভুক্তভোগী নারীর মামলাটি।

এদিকে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা শুরু করেন স্থানীয় ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল জব্বার। তাঁর নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাতে কশব ইউনিয়ন পরিষদে শালিসের আয়োজন করা হয়। শালিস-বৈঠকে চেয়ারম্যানে ফজলুর রহমান, অপর এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বুলবুল হোসেন ওরফে বুলু মেম্বার, মোজাফফর মাষ্টার, আব্দুর রহিম, আব্দুস সালামসহ অভিযুক্ত যুবকের পক্ষে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রায় ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫১ হাজার টাকা।

তবে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় মেম্বার ও মাতবরদের চাপের মুখে শালিসে উপস্থিত হয়েছিলাম। কিন্তু বৈঠকে আমার কথা আমলে না নিয়ে সবাই অভিযুক্ত যুবক মামুনুলের পক্ষে কথা বলেছেন। জরিমানার যে রায় দিয়েছেন সেই টাকাও আমাকে দেয়া হয়নি। আমাকে বিচার পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বৈঠকে ডেকে নেয়া হয়েছিল আমাকে। আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।

ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান সংবাদকর্মীকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের সম্মতিতে শালিস করা হয়েছে। সালিসে ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা মেম্বার আব্দুল জব্বারের কাছে জমা আছে।

ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল জব্বার বলেন, বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য সবাই চাপাচাপি করেছে বলেই চেয়ারম্যানকে নিয়ে নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা তাঁর হেফাজতে রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এব্যাপারে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, ঘটনার ব্যাপারে বুধবার বিকালে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে, তদন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা নিষ্পত্তি করা যায় কিনা? জানতে চাইলে ওসি বলেন, এঘটনাটি শালিস বা আপোষ যোগ্য বিষয় নয়, যদি কেউ করার চেষ্টাকরে তদন্ত পূর্বক জড়ীতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ