দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ৯:১৬ অপরাহ্ন

শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চারটি ই্উনিয়ন নিয়ে গঠিত সর্বহিত প্রাচীন তম ভোজেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এই অফিসের ভুমি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম,অফিস সহায়ক আল্পনা রানী, রতন দেঃ দুই উমেদার মোঃ রোহান ও রিয়াদ মিলে পুরো অফিস ব্যবস্থা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

আফিস সহায়ক আল্পনা রানী ও রতন দেঃ শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দেঃ, এর আত্নীয় হওয়ার সুবাদে প্রায় ১০বছর যাবত ভোজেশর্ ইউনিয়ন ভুমি আফিসে কর্মরত আছেন।

তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী পদে নিয়োগ প্রাপ্ত আব্দুস সালাম বর্তমান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তাকে দেখলে মনে হয় কোনো এক মসজিদের ইমাম কিন্তু অবৈধ ঘুষ ব্যাণিজ্য দুর্নীতির অভ্যাস আজও ছাড়তে পাড়েননি। নিজ এলাকায়, তিনি লাখ লাখ টাকার সম্পদ কিনেছন, তার এ চাকরির বেতনে কিভাবে এতো টাকার সম্পদ কিনা সম্ভব।তা নিয়ে জনমনে জেগেউঠেছে নানা প্রশ্ন।

এই প্রশ্নের উত্তর খোজতে ভোজেশ্বর ভুমি অফিসে গিয়ে ভুমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ কালে তারা বলেন এই অফিসে ভূমি সংক্রান্ত যে, কোনো কাজ করতে গেলেই সরকারি নির্ধারিত ফি এর চাইতেও দশ গুন বেসি টাকা দিতে হয়।

অফিস সহায়ক আল্পনা রানী ও রতন দেঃ প্রতিটি খসড়া পর্চা দিয়ে সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ২শত টাকা থেকে ৩শত টাকা। দুই উমেদার রোহান ও রিয়াদ প্রতিটি নামজারির আবেদন ফি বাবদ নিচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১৫শত টাকা এবং অনলাইনে খাজনার আবেদন ফি বাবদ নিচ্ছে ২শত টাকা থেকে ৩শত টাকা। তহসিলদার আব্দুস সালাম নড়িয়া এসিল্যান্ড আফিসে টাকা দিতে হয় এই কথা বলে প্রতিটি নামজারির বাবদ সেবা গ্রহিতার কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ৮হাজার টাকা থেকে ১০হাজার টাকা।আর যদি জমির দলিল অথবা পর্চায় কোনো প্রকার সাধারণ ত্রুটি থাকে তাহলে প্রতিটি নামজারিতে নেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা।যে কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সেবা গ্রহিতার দিতে হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। ভূমিকর অথবা খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধরিত ফি এর চাইতেও দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা।

ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়ন থেকে ভুমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা খোরশেদ পাজোরী নামে এক ভোক্তভূগী বলেন যোগপাটা মৌজার ৮ শতক জমি নামজারি করতে ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। আরও ৩ হাজার টাকা চেয়েছে আমি টাকা দিতে না পাড়ায় আমাকে তিন সপ্তাহ যাবত ঘুরেইতেছে বিষয়টি আমি এসিল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে জানিয়েছি।

ভুমি অফিসে সেবা নিতে আসা আর এক সেবা গ্রহিতা বিউটি বেগম জানান আমার একটি মিসকেস এর তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তহসিলদার আব্দুস সালাম আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে আমি তাকে ৬ হাজার টাকা দিয়েছি।

ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এর কাছে ঘুষ ব্যাণিজ্য ও দুর্নীতির বিষয় জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করে।

উপ-সহকারি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল হোসেন এর কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি দুই মাস যাবত এই অফিসে যোগদান করেছি, ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহিতাগণ আমার কাছে তেমন কোনো কাজ নিয়ে আসেনা।আফিসের সকল কাজ অন্যরাই করেন।এসিল্যাড স্যার ও নায়েব সাহেব আমাকে কোনো দায়ীত্ব দিলে আমি তা,পালন করি।

নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পারভেজ হাসান বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেলে  আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ