এলিস হক।।
শুক্রবার ৭ই সেপ্টেম্বর’১৮ বিকাল ৩টায় ঝিনাইদহ জেলা সদরের স্থানীয় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম রাউন্ডের নকআউট পদ্ধতিতে প্রথম খেলায় মহারাজপুর ইউনিয়ন টাইব্রেকার কিকে ৩-২ গোলে ঘোড়শাল ইউনিয়ন দলকে এবং দ্বিতীয় খেলায় সুরাট ইউনিয়ন ২-১ গোলে হলিধানী ইউনিয়ন দলকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে। খেলার প্রথমার্ধে ঘোড়শাল ইউপি দল ১-০ গোলে এগিয়েছিল।
খেলার প্রথমার্ধে ১১ মিনিটে মহারাজপুর ইউপির পক্ষে ৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় হায়দ হোসেন বক্সের মধ্যে বল নিয়ে ঢুকে গোলে হিট করেন (১-০)। ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ঘোড়শাল ইউপি ১-০ গোলের লিড ধরে রেখেছিল। খেলা শেষ হওয়ার ৩ মিনিট পূর্বে গোল খেয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। পরে আর গোল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। সবাই ধরে নিয়েছিল ঘোড়শাল ইউপি দল পরের রাউন্ডে উঠতে যাচ্ছে…এমন সময় খেলার শেষ দিকে অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে ঘোড়শাল ইউনিয়নের ১০ নম্বর জার্সিধারী দলনায়ক আলামিন শেখ দারুণ একটা নিখুঁতভাবে হাফভলির সহায়তা গোল করে সমতায় আনেন (১-১)। নির্ধারিত ৭০ মিনিটে উভয় দলের ফলাফল ১-১ ড্র হওয়ায় টাইব্রেকার কিক গড়ায়।
টাইব্রেকার কিকে উভয় দল ২-২ গোল সমান হওয়ায় সাডেন ডেথ পদ্ধতিতে মহারাজপুর ইউপি দল জয়লাভ করে। মহারাজপুরের পক্ষে আজিবর বিশ্বাস (১৫ নম্বর জার্সি) ও অন্তর মিয়া (১৩ নম্বর জাসি এবং ঘোড়শালের পক্ষে দলনায়ক আলামিন শেখ (১০ নম্বর জার্সি) ও রুস্তম হোসেন (৩ নম্বর জার্সি) গোল করেন এবং সাডেন ডেথ কিকে ঘোড়শালের পার্থ বিশ্বাস (৪ নম্বর জার্সি) টাইব্রেকার কিক মিস করেন এবং শেষ টাইব্রেকার কিকে মহারাজপুরের গোলাম কিবরিয়া (৬ নম্বর জার্সি) গোলকিপার পারভেজ হাসানের মাথার উপর দিয়ে বল জালে প্রবেশ করিয়ে দেন (৩-২)।

খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান মহারাজপুরের ৪ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় জুয়েল।
মহারাজপুর ইউপি : গোলকিপার আব্দুর রহমান ২২, মিশাত আলী ২, ইমরান ৩, জুয়েল ৪, আলামিন মুন্না ৫, গোলাম কিবরিয়া ৬, নাহিদ হাসান ৭ (আজিবর বিশ্বাস ১৫), হায়দ হোসেন ৮, হাসানুর ৯ (নাজমুল হাসান ১৬), সাইদুর (অধিনায়ক) ও বাপ্পি ১১ (অন্তর মিয়া)।
ঘোড়শাল ইউপি : গোলকিপার পারভেজ হাসান ২২, অনিন্দ্য বিশ্বাস ২, রুস্তম হোসেন ৩, পার্থ বিশ্বাস ৪, মুর্শিদ ৫, আনিসুর ৭, সাকিবুর ৮ (নয়ন ৬), শিমুল বালা ৯, আলামিন শেখ ১০ (অধিনায়ক), রিয়াজ হোসেন ১১ ও নয়ন আলী।
রেফারি : রবিউল ইসলাম। সহকারী রেফারি : শেখ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান শামীম।
৪র্থ সহকারী রেফারি : সেলিম হোসেন।
দিনের অপর খেলায় সুরাট ইউপি ২-১ গোলে হলিধানী ইউপিকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। প্রথমার্ধে উভয় দল ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ করে। প্রথমার্ধে ৭ মিনিটের সময় সুরাটের ৭ নম্বর জার্সি তুহিন ডান পায়ে বক্সের মধ্যে সোজা কিক করে বল জালে জড়িয়ে দেন ১-০। এর ১৪ মিনিট পর অর্থাৎ ২১ মিনিটে হলিধানীর ৭ নম্বর জার্সি খেলোয়াড় বাকিরুল নিখুঁত হেডের মাধ্যমে সুরাটের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন (১-১)।
দ্বিতীয়ার্ধের ৩৯ মিনিটের সময় সুরাটের তুহিন পেনাল্টি বক্সের ভেতর হতে নিচু শট করে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান (২-১)।
খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হিসেবে নির্বাচিত হন সুরাটের ২২ নম্বর গোলকিপার সজিব।
খেলা পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম। সহকারী রেফারি ছিলেন শেখ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান শামীম। ৪র্থ সহকারী রেফারি ছিলেন সেলিম হোসেন।
শনিবারের ২টি খেলা : পদ্মাকর ইউপি বনাম নলডাঙ্গা ইউপি (দুপুর ২.৩০ মিনিট)
দোগাছি ইউপি বনাম উদ্বোধনী ম্যাচের বিজয়ী দল হরিশংকরপুর ইউপি।
You must be logged in to post a comment.