ঝিনাইদহে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম : সওজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১৮, ৫:০০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

কোটি টাকার রাস্তা মেরামতের পর কেমন নষ্ট হয়েছে দেখতে গিয়েছিলেন ঝিনাইদহ সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুস সাকিব। তিনি এমন সময় উপস্থিত হন, যখন সরকারের টাকা লুটপাট করে ভাবমুর্তি ক্ষন্ন করার প্রতিবাদে সওজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিচারের দাবীতে মানুষ মানববন্ধন করছিল। সে সময় সাকিব সাহেবের কাছে অল্প দিনে কেন রাস্তা নষ্ট হলো জানতে চান আওয়ামীলীগ নেতা মাসুদুর রহমান। ধমকের সুরে সওজ প্রকৌশলী বলে ওঠেন আমি সবার কথা শুনতে বাধ্য নয়। আর যায় কোথায় উপস্থিত জনতা তেড়ে ওঠেন, মারতে উদ্যোত হয়। একজন সিনিয়র সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় সে যাত্রা বেচে যান তিনি। তার দাবী ঠিকাদার আমিরুলের কাছ থেকে তিনি কোন টাকা নেন নি। আর রাস্তা নষ্ট হয়েছে ড্রেন না থাকার কারণে। এর পর তিনি অফিসে ফিরে গিয়ে অফিসের কেনা ইট পাথর দিয়ে বড় বড় গর্ত ভরাটের উদ্যোগে নিলে জনগন প্রতিহত করেন এবং সওজের গাড়ি ফিরিয়ে দেন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা মাসুদুর রহমান, স্থানীয় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান, সাধারন সম্পাদক রাজু আহম্মেস পল্টন, ঝিনেদা আঞ্চলিক ভাষা গ্রুরুপের সাব্বির আহমদ জুয়েল, মাহমুদুর আল হাসান সাগর, ব্যবসায়ী তাপস দত্ত, সাজেদুর রহমান, মস্তাফিজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফ হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ মানববন্ধ করে দুর্নীতির প্রতিবাদ করেন।

 

ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ হামহদ আরাপপুর বিকল্প সড়কের ৫৩৭ মিটার ও ১৮০০ মিটার রাস্তা জরুরী ভাবে মেরামতের জন্য এক কোটি টাকা টেন্ডার আহবান করেন। ১০% লেস দিয়ে গত ১৪ মে খুলনার শহীদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স নিয়ে শৈলকুপার ঠিকাদার আমিরুল ইসলাম কাজটি শুরু করেন। শুরু থেকেই তিনি ঘাপলাবাজীর আশ্রয় নেন। জুনের আগেই তিনি যেনতেন ভাবে কাজ শেষ করে ৮৯ লাখ টাকা তুলে নেন। কিন্তু মেরামতের ১ সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন ও পাথর উঠে আগের চেয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে ওই সব জায়গায় ৫০ ফুট লম্বা বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে খবর বের হলে ঠিকাদার আমিরুল ইসলাম গতকাল এক লাখ টাকা অফিসে দিয়ে যান রাস্তা মেরামত করার জন্য। কিন্তু সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুস সাকিব ও ওয়ার্ক এসিসট্যন্ট কাজী আতিয়ার ঠিকাদারের টাকা পকেটস্থ করে অফিসের টাকায় কেনা পাথর দিয়ে রাস্তা মেরামত করার চেষ্টা করছেন। নিয়মানুয়ায়ী কার্যাদেশ প্রদানের এক বছরের মধ্যে রাস্তা রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদোরের। কিন্তু ঝিানাইদহ সওজ তা না করে নিজেটের অফিসের টাকায় ভাঙ্গাচোরা মেরামত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য গতকাল ”অন্যদৃষ্টি”তে এ রাস্তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ