চিত্রে যাকে দেখছেন, তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন আপনাদের আবুল বাশার। তার বাড়ি জাজিরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে।
তিনি দীর্ঘ বছর ধরে জাজিরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় অর্থাৎ পিআইও অফিসের পিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কোন পিয়ন নন। তিনি বিনা বেতনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই পিয়নের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি পিআইও অফিসের সকল কাজের কাজী হয়ে দাড়িয়েছেন।
আবুল বাসারকে ছাড়া পিআইও অফিসের কোন কাজই হয় না। যদিও পিআইও অফিসে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পিয়ন রয়েছে। তারপরেও পিআইও সাহেব তাকে ছাড়া চলতেই পারেন না। পিআইও অফিসের জনবল কম হওয়ার কারণে সকল কাজই করেন এই বাসার। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আনা নেয়া, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া, টাকা তোলাসহ প্রকল্প পরিদর্শন তিনিই করে থাকেন। তার রিপোর্টের উপর নির্ভর করে প্রকল্পের ভাগ্য। আর পিআইও সাহেব তার রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকল্পের ঠিকাদারকে বিল দিয়ে থাকেন। যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ঠিকাদারগণ তাকে সমিহ করে চলেন। তাকে খুশি করে না রাখলে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ঠিকাদারদের কাজ ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। তিনি পিআইও অফিসে পিয়নের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দালালীর কাজটিও ভালো ভাবে করছেন। আর এই দালালী করতে গিয়ে তিনি এখন শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ জাজিরা শহরে রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। তিনি এখন নিজেকে জেলা শহরের একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদর হিসেবে দাবী করছেন। তিনি এমন কি কাজ করছেন যে, শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আবুল বাসার কোথায় এবং কিভাবে ঠিকাদারী করছেন তার খোঁজ নিতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র। তিনি যে পরিমাণ অনিয়ম করেছেন তার চিত্র এক পর্বে তুলে ধরা সম্ভব নয়। ধারাবাহিক ভাবে তার অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হবে। আজ তার অনিয়মের প্রথম চিত্রটি তুলে ধরা হলো।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় “গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ” অর্থাৎ যাদের ভিটা আছে, ঘর নেই তাদেরকে পিআইও অফিসের মাধ্যমে সরকার ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০ জন গৃহহীনকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।
সেই ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং ঠিকাদার আবুল বাসার করেছেন ব্যাপক অনিয়ম।
সরকারী বিধি মোতাবেক দুর্যোগ সহনীয় এই ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ঘরগুলো পিআইও অফিস সংশ্লষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবেন। কোন ক্রমেই ঠিকাদার দিয়ে করা যাবে না। কিন্তু পিআইও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে তার পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন।
সরেজমিনে জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়নে নির্মাণাধীন প্রত্যেকটি ঘরে গিয়ে দেখা যায়, ঘর গুলো খুবই নি¤œমানের উপকরণ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক নকসা অনুসারে প্রত্যেকটি ঘর মাটির ১ ফুট গভীরে গাথনি দিতে হবে। তারপর মাটির উপর থেকে ২ ফুট পাঁকা ভিটির উপর ঘর নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু কোন ঘরই মাটির গভীর থেকে ১ ফুট গাথনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়নি। প্রত্যেকটি ঘরই মাটির উপর থেকে নির্মাণ করা হয়েছে।
ঘরে সিমেন্ট এতোটাই কম ব্যবহার করা হয়েছে যে, ঘরের দেয়ালে হাত দিয়ে ঘসা দিলে বালি খসে পরে। সরকারী বিধি মোতাবেক ঘরে মানসম্মত কাঠ ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেখানে খুবই নি¤œমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘরের পিলারে কোন রড ব্যবহার করা হয়নি। যার কারণে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলেই পিলার গুলো লড়ে। ঘরের ফিনিসিং না দিয়েই চুনকাম করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে ঘরের মালিককে।
এদিকে সুবিধাবঞ্চিতরা বলছেন, সরকার গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং প্রকল্পের ঠিকাদার আবুল বাসার যে ঘর নির্মাণ করছেন, সেই ঘর নির্মাণ করতে এতোটাই নি¤œ মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে যে, বড় কোন দুর্যোগ হলে আমরা সেই ঘরের নীচে পড়েই মারা যাবো।
অপরদিকে কি এক অদৃশ্য স্বার্থে প্রকল্পের ঠিকাদার আবুল বাসারকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আবুল বাসারের সাথে মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার সাথে পরে দেখা করবো।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে আলাপ করতে গেলে তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে যান।
You must be logged in to post a comment.