চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বাসহ একই পরিবারের ৭ জনকে মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২, ১১:৩১ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ৭ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন– কুন্দিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী জমেলা খাতুন (৬৫), তার তিন ছেলে ইসরাফিল হোসেন (৩৪), হোসেন আলী (৪০) ও মুসা করিম (৩০), ইসরাফিলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জাকিয়া খাতুন (২২), মুসা করিমের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (২৬) ও হোসেনের স্ত্রী শিউলি খাতুন (২২)।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার ঈদে গরুর মাংসের জন্য করা সমিতির টাকা দেয়াকে কেন্দ্র করে কুন্দিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে হোসেন আলীর সাথে একই এলাকার কদম আলীর ছেলে মোস্তফার মারামারি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মোস্তফা হোসেন আলীর বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় হিজলগাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুজিবুর রহমান অভিযোগের তদন্ত করতে কুন্দিপুর গ্রামে যান। এ সময় পুলিশ দেখে অভিযুক্ত হোসেন আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির টিনের চালের সাথে লেগে তার কপাল কেটে যায়। কপাল থেকে রক্ত বের হতে দেখলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় তার পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখান থেকে ফিরে আসে পুলিশ। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।

তবে আহত জাকিয়া খাতুন বলেন, আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার স্বামীসহ আমি ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশ মনে করেছে যে, আমরা তাদের ওপর হামলা করতে গিয়েছি। পরে আমার স্বামীকে খুঁজতে আমার ঘরে আসে পুলিশ। ঘরের মধ্যে আমার স্বামীকে ধরে গুলি করার জন্য বন্দুক তাক করে। আমি সামনে গেলে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমার পায়ে আঘাত করে এবং ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। সেখানে কোনো নারী পুলিশ ছিল না। একজন নারীকে কিভাবে পুরুষ পুলিশসদস্য মারধর করে? আমরা এর বিচার চাই।

আহত সাবিনা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর নামে কোনো অভিযোগ ছিল না। তাও আমার স্বামীকে বন্দুকের নল দিয়ে মারধর করায় আমি প্রতিবাদ করি। এ সময় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আমাকেও বন্দুকের নল দিয়ে মারধর করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসনাত পারভেজ শুভ বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হোসেন আলী মাথা ও চোখে আঘাত পেয়েছেন। তাকে ভর্তি রেখে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ কাউকে মারধর করেনি। একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েছিল হিজলগাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে পুলিশ দেখে অভিযুক্ত হোসেন আলী প্রাচীর টপকে পালানোর সময় কপাল কেটে যায়।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ অভিযানে গেলে তারা পুলিশকে ধাওয়া দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত হোসেন আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির টিনের চালে লেগে তার কপাল কেটে যায়। পুলিশ কাউকে মারধর করেনি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করা হবে। পুলিশের অপরাধ প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ