গুলজার হোসেন গরিব’র কবিতা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১৮, ৫:৫১ অপরাহ্ন

আমি নিম্ন ভাড়াটিয়া

-গুলজার হোসেন গরিব 

 

আমি লেবার নিম্ন ভাড়াটিয়া থাকি বাসাভাড়া করে

দিন আনি দিন খাই দেহ মোর সম্বল সব দেহ’পরে

ক’বছর বেশ ভালোই কেটেছে স্বপরিবার নিয়ে

আসবাব কিছু কেনা হয়েছে আয়ের টাকা দিয়ে

ছোট দুটো ছেলে মেয়ে আর আমরা দুজন থাকি

আয়ের মানুষ সবার জন্য আমি শুধু একাকী

কষ্ট হয়না কখনো আমার দিনরাত কোনো কাজে

কাজ ছাড়া ঐ মানুষ দেখলে বলতাম তারে বাজে

বন্ধু যারা আছি পাথর বালির কাজ করি দিবানিশি

একসাথে সবাই কাজের মধ্যে বেশতো থাকি খুশি

মন আনন্দে কাজ করি আর গান গাই চলিফিরি

সুযোগ পেলেই বই পড়ি লেখালেখি কিছু করি

উপহাসও হই মানুষের কাছে লেবার নাকি কবি

মুখে তালা দিয়ে সেই উপহাস সয়ে যাই আমি সবি

আমি তুচ্ছ করে দেখি এসব অবোধের বিজ্ঞাপণ

একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে বিশ্বাস করে এ মন

হুট করে এবার দেশজোড়া হায় পণ্যের দাম দেড়ি

হালকা সংসার হয়ে গেলো তাই এক পৃথিবী ভারি

তারপর একদিন কাজে গেলে ভিমরুলের কামোড়

বাঁচার বিশ্বাস হারিয়ে গেলো বাঁচা কপালের জোর

অনেকের মুখে মরে গেছি আমি ছড়িয়েছে প্রচারে

সাতচল্লিশটা কামোড় খেয়ে সে কি বাঁচতে পারে!

বেঁচে গেলেও এখন প্রায় মরা রোদে কাজ পারিনা

রাত্রি বড় আশা রাতেই কাজ করি হাল ছাড়িনা

মাসে মাসে আর দিতে পারিনা বাসা ভাড়ার টাকা

প্রায় মাসে বাড়িওয়ালা এসে দেয় সে ভীষণ বকা

কিছু তখন বলতে পারিনা আমি যে রোগা ভাড়াটিয়া

হয় কিছু দিন দেরি তবু শোধ করি ভাড়া দিয়া

বর্ষা মোদের চোখের পানি বর্ষা মোদের কাল

তবুও চলি কোনোমতে মোরা দারিদ্রের যে হাল

এরি মাঝে হঠাৎ কাজের মধ্যে কোমর উপরে ব্যথা

ডাক্তারের ডেকে বললেন কিডনি সমস্যার কথা

আরো বললেন বাঁচতে হলে কাজ দিতে হবে ছেড়ে

কাজ করলেই মৃত্যু তোর আসবে সামনে তেড়ে

ঔষধ দিলেন হরেক রকম অনেক তার যে দাম!

বাঁচার জন্য ধার করে টাকা সব ঔষধ কিনলাম

ঔষধ খেলেই ভালো থাকি অল্প কিছু দিন

তা না হলে ব্যথায় বলে আসছে মরণ দ্বীন?

সাহায্য করবে এমন কেহ নেই যে দুনিয়ার পরে

পিতামাতা হতদরিদ্র তাঁদের খাদ্য থাকেনা ঘরে

ঘোর বিপদে আমার পাশে একজন দেবতা এলেন

কাজ পারিনা তাই লক্ষটাকা ব্যবসা করতে দিলেন

সেই টাকাতে মালামালও ফেলি কোনো একস্থানে

জোর করে সেই জায়গাটারে নিলো  ক্ষমতাবানে

হাতপায়ে কতো চেপে ধরেছি দয়া হয়নি তাদের

মূল্য বোঝেনি কখনো তারা পোড়খাওয়া গরিবের

আমার বালিতে বাড়ি বানালেন অন্য আরেক নেতা

কানাকড়িও দিলোনা সে টাকা চাইলে হয় চেতা

ব্যবসা আমার নিলো লুটে ক্ষমতাবান আর রোগে

ঋন যেনো আকাশ সমান বেঁচে আছি কোনো যোগে

চলছে এমন বছর আড়াই কোনোমতে কোনোহালে

বেঁচ থাকা যেনো এখন আমার দ্বিগুণ মৃত্যু জ্বালে

এরি মাঝে বাড়িওয়ালা এসে যা ইচ্ছে তাই বলে

দুঃখ পাইনা বুঝিয়ে তুলি হাসিমাখা কোনো ছলে

দুঃখ আমার লক্ষ্য ছেড়ে নিয়ে গেছে সে বহুদূর

দিন যেনো মোর কর গুনে ঐ আশাবাদী মৃত্যুর

এরি মাঝে এক স্যার এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন

বল্লেন কবি আপনার লেখা দিয়ে বই বের করবেন?

ভাবছি স্বপ্ন দেখছি স্বপ্ন নয় সে সত্য করলো স্যার

‘কুহকে মোহিত’বই দিয়ে শেষে আঁধার!করলো পার

একুশে মেলায় ডেকে নিলো স্যার সলিমুল্লার নাতি

নিজ শহরে প্রকাশনা উৎসবে আসেন শহর পতি

বাবা মা এলো গুনীজন এলো অনুষ্ঠান হলো মুখর

লাল্টু দীলিপ নির্ঝর স্যারের কৃতিত্ব অবিনশ্বর

মনের আকাশে সুখের ধারা সারারাত প্রবাহিত

ছুটবো সকালে বিক্রি করতে মোর ‘কুহকে মোহিত’

পরদিন মরন খবর এলো আমার দুই কানে

বড় ভাবি আমার মারা গেছে সে অকাল মৃত্যুবানে

বিধাতা আমার বিরূপ বুঝি দেখে সুখের সময়

ভেসে আসা এক দুঃখের কাছে হলো পরাজয়

দেনা দুঃখ কষ্ট জ্বালা এখন আকাশ সমান

আমি এখন নিম্ন ভাড়াটে নিত্য সই অপমান

আমার এমন দুরাবস্থা দেখেও ক্ষিপ্ত মহাজন

তাই তো সেদিন বললেন রেগে ঘর থেকে বের হন

চলে গেলে তিনি একা বসে নিরবে কাঁদলাম আমি

করুণা চাইলাম দয়া করো মোরে ওগো মাতৃভূমি

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ