স্টাফ রির্পোটার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত চিত্রানদীর বিভিন্ন স্থানে এপার ওপার বাঁধ দিয়ে পানির স্রোতকে বাঁধাগ্রস্থ করে ছোট ছোট দেশি মাছ ধরছে এক শ্রেণীর মৎস্য শিকারী। স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট বসিয়ে যদি এ সমস্থ বাঁধ উচ্ছেদ ও মাছ শিকারীদের জরিমানা করে তাহলে দেশী প্রজাতির মাছের আর অভাব হবে না। স্থানীয়রা জানিয়েছে, চিত্রা নদীটি ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নড়াইল হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। ঝিনাইদহে সদর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে বেশ কয়েক কিলোমিটার এই নদী বয়ে গেছে। বর্ষার সময় এই নদীতে প্রচুর পানি ও দেশি মাছ থাকে। সেই সাথে সরকারিভাবেও এই নদীতে মাছ ছাড়া হয়। সম্প্রতি নদীতে এক শ্রেণীর অসাধূ মৎস্য শিকারীরা অর্ধশতাধিক স্থানে বাঁশ, চাটাই, পলিথিন ও জাল দিয়ে বাঁধ দিয়েছে। এতে করে পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে মারাত্মকভাবে। তাছাড়া একেবারেই ছোট দেশি ট্যাংরা, পুটি, শিং, পাকাল মাছ ও উড়োর জাল দিয়ে ধরা হচ্ছে রুই, কাতল, শৈল, গজাড় মাছ সহ অন্যান্য মাছ। গান্না, মাধবপুর, চান্দেরপোল, ফাজিলপুর, কালুখালী, সিনদহ আলাইপুর, শালিখাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মাছ ধরার জন্য এই বাঁধ দেয়া হয়েছে। সরজমিনে যেয়ে দেখা যায়, শিংগী বাজার মোস্তবাপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে পরপর ৩ টি বাঁশের বাঁধ। প্রথম বাঁধটি দিয়েছেন, নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ফারাসপুর গ্রামের মৃত বিলাত আলী বিশ্বাসের ছেলে, দাউদ হোসেন (৫৫)। দ্বিতীয় বাঁধ দিয়েছেন একই গ্রামের মৃত জহর আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ বুল্লা মন্ডল (৪৫), আর তৃতীয় বাঁধটি দিয়েছেন, মোস্তবাপুর গ্রামের মৃত মনো মন্ডলের ছেলে হাসেম আলী মন্ডল (৫৫), গোমরাইল গ্রামের গোপাল ও সুবল মালো। এরা সবাই জানান, এসব প্রতিবারই আপনারা পত্রিকায় লেখেন কি হয়? মোবাইল কোর্ট এসে কিছু টাকা জরিমানা করে বাঁধ উঠিয়ে দিয়ে চলে গেলে আবারও ঐ স্থানে বাঁধ দেওয়া হয় আপনাদের কি লাভ হয়? বন্ধ করতে পেরেছেন নদীতে বাঁধ দেওয়া? পারবেন না। এটা যুগ যুগ ধরে আমাদের বাপ দাদারা এভাবে নদিতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে আসছে। কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা জানান, চিত্রা নদীতে অনেক স্থানে এভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা অবৈধ ও আইনত অপরাধ। তিনি জানান, যারা বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে ছোট ছোট মাছ শিকার করছে এদরকে মোবাইল কোট পরিচালনা করে বাঁধ উচ্ছেদ ও জরিমানা করা হবে। সেই সাথে বাঁধ দেয়ার বাঁশ, চাটাই, পলিথিন, জাল জব্দ করে নিলাম এবং জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে। তিনি জানান, অবৈধ বাঁধগুলো অপসারণের জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।