ঈদুল আযহার দু’দিন পূর্বে বৃহস্পতিবার ১০/১২ বছরের এক শিশু লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শহরের বাইপাস সড়কে অসহায়ের মত ঘুরাঘুরি করছিল। ব্যাপারটি নজরে আসতেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ওইদিন রাতেই শিশু-ছেলেটিকে রামগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা মাত্রই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ছেলেটিকে বুকে টেনে নিলেন। আদর করে গোসল করিয়ে খাওয়ালেন যত্ন-সহকারে। পরদিন শুক্রবার কিনে দিলেন নতুন জামা-প্যান্ট।
এরপর দরদী কন্ঠে নাম জিগ্যেস করতেই শিশুটি জানাল- তাট নাম ছাইমুন। পিতার নাম মৃত আ: ছালাম। বাড়ি কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ছেলেটি উত্তর দিল- সোনাইমুড়ি থানার কামালদিঘী গ্রামে। পরক্ষনেই অন্য অফিসারগণ জিগ্যেস করতেই ছেলেটি একেকবার একেক স্থানের নাম উল্লেখ করে। এমন পরিস্থিতিতে ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন পড়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। কারণ- সোনাইমুড়ি থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন বিধায়- তিনি জানেন ওই থানায় কামালদিঘী নামে কোন গ্রাম নেই।
কি করবেন, পরদিন অদ্য শনিবার ওই ছেলেটিকে নিয়ে নিজের পরিবার-পরিজনের সাথে করেছেন ঈদুল আযহা উদযাপন। ঈদের দিন বিকেলে থানা প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখি- ওসি সাহেব ছেলেটিকে কাছে নিয়ে বসে আছেন। আমাকে দেখেই কাছে ডেকে বৃত্তান্ত সুধিয়ে বল্লেন-ভাই, আভিভাবকদের খুঁজে না পেলে ছেলেটিকে বেশিক্ষণ কাছে রাখা যাবেনা। বাধ্যহয়ে সোপর্দ করতে হবে আদালতে।
তখন ছেলেটির অভিভাবকগণ তাকে পেতে বেগ পোহাতে হবে। এরপর ওসি আমাকে তার মায়াবী কন্ঠে বললেন, একটু দোয়া করবেন যেন ছেলেটির অভিভাবকদের সন্ধান পাওয়া যায়।যে দেশে বৌ’য়ের কথায় সন্তান বৃদ্ধা মা-বাবা’কে বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যায়, সামান্য করোনার ভয়ে আপন জনেরা রক্তের সম্পর্ক ভুলে আপনজনদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে মানবতাকে পাঠিয়ে দিয়েছিল ওই দূ-র আকাশে—
সে দেশেই ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের মত ব্যক্তিগণ তাদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সেই দূ-র আকাশ থেকেই মানবতাকে বারবার মর্তে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে প্রমান করে যাচ্ছেন-
সবার উপরে মানুষ সত্য-তাহার উপরে নাই।
আমি আবারও স্যালুট জানাই রামগঞ্জ থানার গর্ব ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে। আপনি ভাল থাকুন সবসময়।
You must be logged in to post a comment.