একজন সমাজসেবীর জীবনের গল্প

মোহাম্মদ আলী, লক্ষীপুর
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
সমাজসেবক হান্নান গাজী

হান্নান গাজী, পিতাঃ নাসির আহম্মদ, মাতাঃ ফাতেমা বেগম দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে এক বোন ও ছয় ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ নাম্বার তিনি।

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৭নং বামনী তে বেড়ে ওঠে হান্নান গাজী। ২০১০ সালে মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১২ সালে আলিম পাশ করেন স্বনামধন্য মাদ্রাসা থেকে। অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স সাফল্যের সাথে শেষ করে ঢাকা টেক আইটি লিমিটেড নামক একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে জব করছেন তিনি।

হান্নান গাজী কিছু মানুষের কাছে একজন আদর্শ, কিছু মানুষের গভীর শ্রদ্ধা এবং কিছু মানুষের আস্থার প্রতীক। আত্মীয় পরিজন এবং ওস্তাদদের কাছে অনেক প্রিয় এবং স্নেহের ছিল হান্নান গাজী। হান্নান গাজী বি- (নেগেটিভ) রক্তের বাহক, ছোটবেলা থেকেই দুরন্তপনা আর পরম সেবার জন্য সবার থেকে ব্যাতিক্রম ই ছিলো শ্রেনীকক্ষ থেকে শুরু করে বন্ধু পরিজন কিংবা খেলার মাঠে।

যেখানে যেভাবে সুযোগ পেতো সেখানেই মানুষ বা সমাজের জন্য কিছু করতে আপ্রাণ চেষ্টা এবং ইচ্ছা শক্তির প্রয়োগ করতেন হান্নান গাজী। এরপরেই নিজের শরীরে বয়ে যাওয়া রক্ত দিয়ে অন্যের জীবনে আলো জালাতে রক্তদানের মত মহৎ কাজে বিলিয়ে দিতেন নিজেকে।

নিজে রক্তদানের পাশাপাশি বন্ধু বান্ধবদেরকেও রক্তদান সম্বন্ধে বুঝাতেন, আহ্ববান করতেন অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে। কখনো কারো ডাকে সাড়া না পেলে একাই দৌড়ে বেরিয়ে লড়ে যেতেন হান্নান গাজী। থেমে না থেকে পিছপা ও হননি তিনি।

রক্তদানের পাশাপাশি ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, সিজনাল ভাইরাস সম্বন্ধ্যেও পায়ে হেঁটে, গ্রাম মহল্লায়,দেশের যে কোন জেলায় ছুটে চলেন এ হান্নান গাজী। এমনকি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন এ দায়িত্ব পালন করেন হান্নান গাজী।

নিজ শরীর থেকে রক্তদানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৫ (পনেরো) টি ব্যাক্তির পাশে দাঁড়িয়েছেন হান্নান গাজী। যার মধ্যে অনেকবার রক্ত দিতে গিয়ে ফিরেও আসতে হয়েছে। তিনি তার নিজ এলাকায় বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করবে। অনেক অসহায় মানুষের চিকিৎার জন্য রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন হান্নান গাজী।

এমন মানুষের জন্য রইলো অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বেঁচে থাকুক মানুষের ভালোবাসায়।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ