হাড় কাঁপানো কনকনে শীত সাথে তীব্র কুয়াশা। বইছে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। পৌষের বিদায়লগ্নে সারা দেশে যেমন শীতের প্রকোপ বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গরীব-দুঃখী মানুষের দুর্ভোগ। এমন বৈরী আবহাওয়ায় থেমে নেই মানুষের জীবনযাত্রা। জীবিকার তাগিদে ছুটছে তারা। তাদের মধ্যে অনেকের গায়ে নেই শীতের গরম কাপড়। দেশের শহর কেন্দ্রিক জায়গাগুলো বিত্তবানদের শীতবস্ত্র বিতরণের হাত থাকলেও বঞ্চিত থেকে যায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের মানুষগুলো। তারা সরকার বা প্রশাসন থেকে পায় না কোন সাহায্য সহযোগিতা। এসব অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা ৭নং বাক্তা ইউনিয়নের একদল যুবক কাজ করে যাচ্ছে। নিজ উদ্যোগে ফাণ্ড সংগ্রহ করে তা দ্বারা কম্বল ও চাদর কিনে বিলিয়ে দিচ্ছে অসহায় মানুষের মাঝে।
‘আমরা মানবতার সেবক’ এই স্লোগান কে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৭নং বাক্তা ইউনিয়নের ‘অগ্রগ্রামী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভ্যান বোঝাই কম্বল ও চাদর নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৭নং বাক্তা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি ঘুরে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন তারা।
গত কয়েকদিনে তারা ২৯০জন অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন। এর মধ্যে ৫০টি চাদর ও ২৪০টি কম্বল পুরুষ ও নারীদের মধ্যে বিতরণ করেন। যাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে তারা অধিকাংশই বিধবা, বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা, প্রতিবন্ধী এবং এতিম-অসহায়।
জানতে চাইলে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ফিরোজ খান বলেন, আমাদের ইউনিয়ন সকল ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। আমাদের পাশের আছিম, ভবানীপুর, কালাদহ, রাঙ্গামাটি ইউনিয়ন অনেক এগিয়ে। বিবেকের তাড়না থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কে সহযোগিতা করতে চাই। সকলের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতেও এমন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের সমন্বয়ক আব্দুস সালাম রুবেল বলেন, মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। মূলত এই কথাটা থেকেই আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের ফাণ্ড সংগ্রহে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে এলাকার বিত্তশালী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী যারা আছেন। ভবিষ্যতে আমরা সমাজের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের সেবা করবো।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘অগ্রগ্রামী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’ যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে তারা।
অন্যদৃষ্টি/ আশিক