বিমল দাস মনপুরা,ভোলা।।
সনাতন ধর্মবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার ১৮ই আষাঢ় (৪ই জুলাই) শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথ যাত্রা শুরু হবে এবং শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা (উল্টোরথ) মধ্য দিয়ে ২৫ ই আষাঢ় (১১ই জুলাই) পরি সমাপ্তি ঘটবে ।।
মানুষের মাঝে সম্প্রীতি শান্তি মৈত্রীর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব,বলদেব ও সুভদ্রা মহরানির বিগ্রহ গণ উৎসবলগ্নে মন্দির থেকে রাজ পথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন।
অনধিকাল থেকে পুরীতে প্রতি বছর রথযাত্রার মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে সারা জগতে প্রভু হচ্ছেন শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রেমে বশীভূত হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ছিলেন । শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব অত্যান্ত কৃপাশীল , যারা মন্দিরে জগন্নাথকে দর্শন করতে আসেনা তাদের সবাইকে কৃপা ও আশির্বাদ করতে তিনি মন্দির থেকে প্রতিবছর এই দিনে বেরিয়ে আসেন।।
ভগবান জগন্নাথদেব হলেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ; যিনি জগতের নাথ বা জগদ্বীশর রুপে প্রকাশিত অর্থাৎ (যখন পৃথিবীতে অধর্মের গ্লানিতে ভরে উঠে তখন দুষ্টকে দমন করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য পৃথিবীতে বেরিয়ে আসেন)।
তাই এটি এমনই সুন্দর সুযোগ্যময় একটি উৎসব যার মাধ্যমে আমরা ভগবানের প্রতি হৃদয়ের ভক্তি ও প্রেম নিবেদন করতে পারি । রথযাত্রার দিন রথরূঢ় পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব বলদেব ও সুভদ্রা দেবীকে দর্শন করে আপনার হৃদয়ের ভক্তি নিবেদন করুন এবং রথের রশি ধরে টেনে আপনার মানব জনমকে স্বার্থক করে তুলুন ।
রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেয়ার মানে হল আত্মোপলব্ধির পথে একধাপ অগ্রসর হওয়া। রথযাত্রা শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম লীলা এই উৎসবে অংশ নেয়ার অর্থ হলো সরাসরি কৃষ্ণের সংস্পশে আসা যারা মন্দিরে এসে ভগবানকে দর্শন করেন না , তাদেরকে দর্শন দেয়ার জন্য ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব ভক্ত পরিবেষ্ঠিত হয়ে নিজেই পথে বের হন।
সত্যিকার অর্থে মানুষ মানুষের জন্যই হতে পারে সে হোক হিন্দু ,মুসলিম , বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ।
জাতি বর্ণ মত নির্বিশেষে মিলেমিশে থাকার একান্ত প্রত্যয়। সুখ শান্তি ও সমবৃদ্ধিতে ভরে উঠুক পুরো পৃথিবী।।
You must be logged in to post a comment.