৩০ ডিসেম্বরের ভোট বাংলাদেশের মানুষের জন্য শেষ পরীক্ষা: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:১৬ অপরাহ্ন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের জন্য শেষ পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা না করে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবানও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন ও আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন মওদুদ আহমদ।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা এলে এই সরকারের পতন হবে। তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করা যাবে না। ইলেকশন কমিশন তাদের কর্তব্য ও ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। ইলেকশন কমিশনের মুখে এক, বাস্তবে আরেক।

মওদুদ আহমদ বলেন, রিটার্নিং অফিসার একজন আমলা। তিনি ইসির কর্মকর্তা নন, সরকারের কর্মকর্তা; তার মেইনস্ট্রিম ক্যারিয়ার-প্রোমোশন সবকিছু সরকারের আওতাধীন। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। দলীয় সরকার থাকলে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না।

এদিকে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড়শ সাবেক সেনা কর্মকর্তার সভা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনি কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না। কিন্তু সেদিনের অনুষ্ঠানটি সরকারি কোনো কর্মসূচি ছিল না। সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রীয় ভবন গণভবনকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে, সরকার একতরফা ও ভোটারশূন্য নির্বাচনের পথেই হাঁটছে।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্মাণ করতে দিচ্ছেন না। তিনি মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান রহমানসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যে কটূক্তি করেছেন তা অরুচিকর, অশ্রাব্য ও উসকানিমূলক। তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, দলবাজ নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কখনোই সাহসী হতে পারবে না। সুস্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি অমান্য করলেও নির্বাচন কমিশন তাতে কর্ণপাত করছে না। বরং জাল-জোচ্চুরি-প্রহসনের ভোটের জন্য সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ