ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।
প্রয়োজনীয় ঘর রেয়েছে। আছে শ্রেণী কক্ষ ও পর্যাপ্ত জায়গা। শিক্ষার্থীরা জেডিসি ও দাখিলি পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করছে।
এরকম সব ধরনের শর্ত পূরণ করা সত্তেও এমপিওভুক্ত হয়নি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উনুঁখা পুকুর পাড় দাখিলি মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মাদ্রাসাটি শিক্ষক – কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই যুগ পার করলেও সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মধ্যে উল্লেখযগ্যে এ মাদ্রাসাটি ননএমপিও হিসেবে পড়ে আছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও আলোর মুখ দেখেনি এ প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে উনুঁখা পুকুর পাড় দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব রফিকুল ইসলাম হিরো। ২০০৪ সালে একাড্যামিক শিকৃতি লাভ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত।
এখানে ছাইন্স,সাধারণবিজ্ঞান শাখা চালু রয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল রয়েছে। এখানে রয়েছে ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও দুই জন কর্মচারী। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ৭০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটির অবকাঠামো যথেষ্ট ভালো। আছে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক – কর্মচারীরা সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বলা যায় তারা মাদ্রাসাটি এমপিও হওয়ার আসায় জমি বিক্রি করে এমনকি বিভিন্ন এনজিও থেকে চওড়া সুদে ঋণ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আজ তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট কয়েক জন শিক্ষক বলেন, আমাদের মাঝ থেকে বিল বেতন ছাড়াই তিনজন শিক্ষক আর কয়েক মাস পর অবসরে যাবেন।
জানা গেছে, শিক্ষকেরা নিজেরাই মাদ্রাসাটির ৪ কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করেন। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব রফিকুল ইসলাম হিরো জানান, এলাকার দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে দ্বিনি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে এলাকাসীকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থীদের পাঠাদানসহ শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখেছে। শিক্ষার্থীরাও দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল করছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এর শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক-সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করার জন্য এলাকাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, সিরাজগঞ্জ ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য তানভির ইমাম মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্তর জন্য শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিওলেটার পাঠিয়েছেন।
এলাকাবাসি মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরিবেশ দেখে সন্তষ্টি প্রকাশ করেন।
You must be logged in to post a comment.