ভারতের দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক এবং হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
৩ জুন ২০২৬ (বুধবার) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটের দিকে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে বি’ (Flourish Stay B&B) নামের একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ভবনে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় ‘লেমন গ্রিন’ নামের একটি রেস্তোরাঁ ছিল। আগুন লাগার সময় সকাল হওয়ায় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, যার কারণে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যা ও বাংলাদেশি নাগরিক:
ভয়াবহ পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযান:
ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইঞ্জিন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুন ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন নারী ও শিশুসহ বেশ কিছু মানুষ ভবনের ২য় ও ৩য় তলার জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন। নিচে থাকা মানুষরা তাদের আঘাত কমাতে তোশক বিছিয়ে দিলেও অনেকেই গুরুতর আহত হন।
অনিয়ম ও তদন্তের প্রাথমিক তথ্য:
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট বা রেস্তোরাঁর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তে জানা গেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। হোটেলটির মাত্র ৬টি কক্ষের অনুমোদন ছিল, কিন্তু তারা অবৈধভাবে বেজমেন্টসহ ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল।
এছাড়া ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য মাত্র একটি সাধারণ প্রবেশ ও বাহির পথ ছিল, যা উদ্ধারকাজে চরম ব্যাঘাত ঘটায়। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হোটেলটির কোনো বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট বা অগ্নি-নিরাপত্তা সনদ (NOC) ছিল না। পুলিশ ইতিমধ্যে হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আর্থিক সহায়তা ঘোষণা:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
You must be logged in to post a comment.