ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।
সিরাজগঞ্জ সলঙ্গাতে দারিদ্রতা আর অভাবের তারনায় লেখা-পড়া ছেড়ে শিশু আসিক মিয়া (১০) মানুষের বাড়িতে যখন যে কাজ পায় তাই করে।
এখন আমন ধানের চাষ মই নিয়ে ব্যস্ত এখানকার ট্রিলার ব্যবসায়ী মালিকেরা। এই সুযোগে দারিদ্রতা আর অভাবের তারনায় লেখা -পড়া ছেড়ে শিশু আসিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হলেও সে খর্দ্দশিমলা গ্রামের জাকেরের ট্রিলার চালিয়ে উপার্জন করে বৃদ্ধা মায়ের সংসারের হাল ধরছে। শিশু আসিক মিয়া সিরাজগঞ্জ জেলা সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের খুর্দ্দশিমলা গ্রামের এক হতভাগা হতদরিদ্র সহিদুল ইসলামের পুত্র। শিশু আসিকের বাবা সহিদুলি ইসলামের ৫টি বৌউ তার ৩ টি তালাক দিয়েছে বলে জানা যায়, আর সে একটি বৌউ নিয়ে কথায় থাকেন এই শিশু বাচ্চা আসিক মিয়া তার পরিবার জানেনা।
দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে শিশু আসিক মিয়া সব ছোট। জানা যায় শিশু আসিক মিয়ার বৃদ্ধা মা হার্টের রোগী তিনি মানুষের বাড়িতে জিয়ের কাজ করতেন সে আর আগের মত কাজ করতে পারেছেনা। আসিক মিয়ার বড় দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আসিক মিয়ার দুই ভাই আগেই বিয়ে করে যার যার মত ভিন্ন। বড় দুই ভাইসহ বাবা সহিদুল ইসলাম মা ও বোনসহ আমার কোন খোঁজ খবর রাখেন না। মা, বোন ও আসিক মিয়াকে নিয়ে ৩ সদস্য পরিবারের দায়িত্ব পড়েছে এখন শিশু আসিক মিয়ার উপর।
এরই মধ্যে আসিক মিয়ার বড় বোন আমশড়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শেণীতে লেখা-পড়া করছে। গত শুক্রবার কথা হয় শিশু আসিক মিয়ার সাথে। সাংবাদিক যেনে শুরু করেন তার পারিবারিক এই কাহিনী। তার খুব ইচ্ছা লেখা – পড়া করার। সে কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রামের সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালের তৃতীয় শ্রেণ্রীতে লেখা -পড়া করছে। তার আশা তাকে যদি সমাজের বৃত্তশালিরা পড়া-লেখার জন্য আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা ও সাহস যোগাতো তাহলে সে পড়া- লেখা চালিয়ে যেতে পারতো। আমার মার জমা- জমি না থাকায় আমার বাবা ও বড় ভাই সংসারের কোন খোঁজ খবর রাখছেন না। মা অসুস্থ্য তাই তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া-লেখার পাশা পাশি বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হলেও জাকের ট্রিলা দিয়ে মাঠে হালচাষে যোদ দেয় শিশু আসিক মিয়া ।
আসিক বলেন, আমি কোন কারণে লেখ-পড়া করতে না পারিলও বড় বোনকে কষ্ট করে লেখাপড়া করাবো এমনই ইচ্ছা প্রকাশ করে শিশুটি। যে বয়সে আসিকে নিমিত স্কুলে যাওযার কথা সে বয়সে মানুষের বাড়িতে ট্রিলার চালিয়ে উপার্জন করে তার পরিবারকে সাহায্য করতে হচ্ছে।
আসিক আরো জানান, আমাদেরকে চেয়ারম্যান – মেম্বাররাও কোন সাহায্য সহযোগিতা করেন না। আমার মার জন্য আপনার পত্রিকার মাধ্যমে সকলের কাছে দোয়া চাই, তিনি যেনু তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠেন। যে শিশুটি আজ স্কলে থাকার কথা দারিদ্রতা আর অভাবের তারনায় এই শিশুটি আজ রাস্তায় রাস্তায় মানুষের বাড়িতে অন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঝুুঁকি পূর্ণ কাজ যেনেও ট্রিলার চালিয়ে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে।
You must be logged in to post a comment.