সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে ঘুষ, বাতিল হয়নি সমবায়, লাঞ্ছিত দলিল লেখক! 

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৯, ৯:১২ পূর্বাহ্ন

ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা সাব-রেজিস্টী অফিসে এখনো বন্ধ হয়নি চেক চাঁদার নামে ঘুষ গ্রহণ ও দলিল লেখক সমিতির সমবায়।

বরঞ্চ সাব-রেজিষ্ট্রার ও দলিল লেখক সমিতির নেতারা যোগসাজস করে তারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বহাল তবিয়তে থেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন অবৈধ পন্থায় আদায় করছেন নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ।

এঘটনায় আব্দুস সামাদ নামে এক দলিল লেখক প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি ন্যায় বিচার দাবী করে মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা রেজিষ্ট্রার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনো সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

উপরন্ত এঘটনার প্রতিবাদে দলিল লেখক আব্দুস সামাদের পক্ষ থেকে দাখিলকৃত অভিযোগের তদন্ত নিয়ে কালক্ষেপনসহ দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ইশারায় সংঘটিত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। অপরদিকে অভিযোগ কারীকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি তাকে কোন দলিলও দাখিল করতে দেয়া হচ্ছে না। এদিকে অভিযোগকারী দলিল লেখক আব্দুস সামাদকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য দলিল লেখক সমিতির নেতারা নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করছেন। তাদের হুমকিতে আব্দুস সামাদ চরম ভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রে পরাধীন হয়ে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে যানাজায়-এ বিষয়ে পৃথক পৃথক ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

ফলে সলঙ্গার সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন? সলঙ্গা সাব-রেজিষ্টার অফিসের ঘুষ গ্রহণ বন্ধ ও দলিল লেখক সমিতির সমবায় বাতিলসহ লাঞ্ছিত দলিল লেখক আব্দুস সামাদ আদৌ ন্যায় বিচার পাবে কি?

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,এবং অভিযোগটি তদন্ত পুর্বক তদন্ত প্রতিবেদন আমার দপ্তরে দাখিল করার জন্য সলঙ্গা থানাকে নির্দেশ দিয়েছি।তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার জানান-এ বিষয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসকের নির্দেশিত আদেশের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ও লাঞ্ছিত দলিল লেখক আব্দুস সামাদ জানান-আমি লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পর থেকে,আমাকে সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস ও দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে আমার সেরেস্তায় যেতে দিচ্ছেন না সমিতির নেতারা। উপরন্তু তারা আমাকে আমার দাখিল কৃত অভিযোগ  প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্যে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। যার ফলে আমি চরম ভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী দলিল লেখক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

উল্লেখ্য,গত ২ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ সলঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে গিয়ে দলিল লেখক আব্দুস সামাদ সরকারি সকল নিয়মনীতি অনুস্বরন করে ১০ লাখ টাকা মুল্যের একটি দলিল সাব-রেজিষ্ট্রার খালেদা সুলতানার নিকট দাখিল করে যথারীতি রেজিষ্ট্রী করে নেয়। এদিকে দলিলটি রেজিষ্ট্রীর পর সাব-রেজিষ্ট্রার খালেদা সুলতানার নির্দেশে মহরার সালমা খাতুন তার নিকট থেকে চেক চাঁদার নামে ৪ হাজার ৯ শ টাকা দাবী করে। এতে ওই দলিল লেখক ৪ হাজার ৫শ টাকা তাকে নগদ প্রদান করে কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি ওই টাকা তার দিকে ছুড়ে মারেন। একপর্যায়ে ওই দলিল লেখক তার অসুস্থ ছেলের ঔষধ কেনার কথা বলে ৪ শ টাকা ছাড় চেয়েছিলেন কিন্তু সাব-রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে মহরার সালমা খাতুন সাফ জানিয়ে দেন এক টাকাও ছাড় হবে না। তার পরও দলিল লেখক আব্দুস সামাদ তার ওই অসুস্থ ছেলের কথা স্বরন করে পুনরায় কাকুতি-মিনতি শুরু করলে এসময় সাব-রেজিষ্ট্রার সরাসরি তার সনদ বাতিলের হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত  সাব-রেজিষ্ট্রার খালেদা সুলতানা ফোনে দলিল লেখক সমিতির কর্তা-ব্যক্তিদের ডেকে এনে ওই দলিল লেখককে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখান। পরে দলিল লেখক আব্দুস সামাদ বাধ্য হয়ে দলিল লেখক সমিতির কর্তা-ব্যক্তিদের চাপের মুখে ঘুষের ওই ৪ হাজার ৯শ টাকাই দেন।

পরে ভুক্তভোগী দলিল লেখক আব্দুস সামাদকে দলিল লেখক সমিতির নেতারা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দলিল লেখক আব্দুস সামাদকে সমিতির সভাপতি আব্দুল করিম ভোলা,সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা,সদস্য আনিছুর রহমান ও এমদাদুল হক লিটন তাকে ব্যাপক ভাবে মারপিট করে এবং তার পকেটে থাকা টাকা ছিনতাই ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আছির উদ্দিন তালুকদারের নির্দেশে তার নিকট থেকে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর পুর্বক স্বাক্ষর নেয়। অপরদিকে সমিতির অন্তরালে গঠিত সমবায়ের নামে ওই রেজিষ্ট্রীকৃত দলিলের বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করা হয়। দাবীকৃত এ টাকা ৭ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে না দিলে তার সনদও বাতিলের হুমকি দেয়া হয় এবং অফিসে যেতে নিষেধ করে। তাদের হুমকিতে তিনি অফিসে যেতে পারছেন না।

এদিকে এঘটনার ন্যায় বিচার দাবী করে সমিতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা সমবায় বাতিলসহ সাব-রজিষ্ট্রার ও দলিল লেখক সমিতির কর্তা-ব্যক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলিল লেখক আব্দুস সামাদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মহা-পরিদর্শক নিবন্ধনসহ সরকারের উচ্চ মহলের বিভিন্ন দপ্তরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ