সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাসহ তিনটি উপজেলায় গাছে গাছে ব্যানার ও ফেস্টুন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাসহ তিনটি উপজেলা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়,রায়গঞ্জ উপজেলার ৩নং ধুবিল, উল্লাপাড়া উপজেলার ১নং রামকৃষ্ণপুর  তাড়াশ উপজেলার ৭নং মাধাইনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ছোট বড় গাছে একাধিক সাইনবোর্ড আটকানো।

প্রকৃতির শোভা বর্ধনেই নয় গাছ আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। গাছ থেকে যে পরিমাণ অকসিজেন আমরা গ্রহণ করি ঠিক সেই পরিমাণ মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া কার্বন- ডাই- অকসোইড  শুষে নেই গাছ। আজকাল প্রায় লক্ষ্য করা যায় রাস্তার পাশে বিভিন্ন নামি দামি লোকের বা পেশার মানুষের নাম পদবী খোচিত সাইনবোর্ড লোহার পেরেক দিয়ে বসানো বা আটকানো গাছের শরীরে থাকে। গাছকে এ ভাবে আঘাত করা নেহাতী সেটা ঠিক কিনা আমার জানা নেই তবে জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করেন ও গবেষণা করেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন এটা ঠিক না।

গাছ এবং মানুষ একে আপরের  উপর নির্ভরশীল গাছ আমাদের অকসিজেন সরবরাহ করে মানুষ তা গ্রহণ করে এবং মানুষ কার্বনডাই অকসাইড নির্গত করে গাছ তা গ্রহণ করে।  তাই গাছ না বাঁচলে মানুষ বাঁচবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের আয়তন ও জনসংখ্যানুপাতে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ৮ – ১০ ভাগ বনভূমি। মানুষের প্রয়োজনে গাছের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অকসেজেন তৈরি এবং কার্বন- ডাই – অকসেইড গ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা,ঝড়,জলোচ্ছাস ইত্যাদি থেকে আমাদের রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম দৃশ্যে পরিণত করে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে আরও প্রখর করে। শুধু কি তাই গাছ আমাদের ফল দেয়, ছায়া দেয়,জীবন রক্ষায় ওষুধ দেয়, গাছের কাঠ দিয়ে আমার ঘরের শোভা বর্ধন এবং ব্যবহারে প্রয়োজনে আসবাবপত্র তৈরি করতে পারি। অভাব ও বিপদে টাকার যোগান দেয়। আগেকার আমলে আমরা দেখেছি বাড়ির চারদিকে বিরাট আকৃতির বটবৃক্ষ ছাড়াও কড়ই,তাল,আম,জাম,কাঠাল,লিচু প্রভৃতি গাছ। কিন্তু মানুষ প্রয়োজনে – অপ্রয়োজনে সেই সব বড় বড় গাছ কেটে ফেলছে।  এক শ্রণির বৃক্ষ নিধনকারীর হাত থেকে গাছ যেন কোনোভাবেই রক্ষা পাচ্ছে না।

ইটের ভাটার জলন্ত আগুনে পুড়ছে আজ বৃক্ষ। একদিকে দেশী প্রজাতির গাছগাছালি যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি ভিন্নদেশ গাছ লাগানো হচ্ছে বেশি। স্যার জগদীস চন্দ্র বসুর লেখাতেই প্রথম জেনেছি।  গাছেরও প্রাণ আছে। নিজের যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন। আঘাত পেলে এরা কাঁদে,খুশীতে আনন্দ করে। প্রাণ থাকলে আমাদের মত মস্তিস্কও নিশ্চয় আছে। যেখানে মনের কথা লুকিয়ে থাকে। সমগ্র অঙ্গ – প্রতঙ্গ পরিচালনার জন্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র(জ্ঞান) আছে। একটি ডালা বা পাতা ছিড়লে জীব – জন্তর রক্তে মত কষ বের হয়। জলের পাইপ অজৈব বস্ত। ফেটে বা কেটে গেলে একজন কারিগর মেরামত না করলে জল পড়তেই থাকে।  কিন্তু জীব – জন্তদের মস্তিস্ক আছে। মস্তিস্ক রক্তপড়া বন্ধের জন্য তৎপর হয়ে উঠে। রক্ত জমাট বাঁধে। পড়া বন্ধ হয় আপনার থেকেই। গাছদেরও কষ পড়া নিজ থেকেই বন্ধের ব্যাপার আছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা জানান, গাছে লোহার পেরেক দিয়ে আঘাত করে সাইন বোর্ড আটকানো ঠিক না এতে জীববৈচিত্রও ক্ষতি হয় তাই তারা এসব সাইনবোর্ড সারানোর জন্য নিজ নিজ এলাকার স্থানিয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ