সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার কৃষকরা আবারো লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে রোপা-আমন চাষে নেমেছে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯, ৭:০৬ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জ (সলঙ্গা) থেকে ফারুক আহমেদ।।

মাথাল, মাথে লাঙ্গল কাঁধে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকেরা লাঙ্গল চালায় মাঠে । তাতে সোনার ফসল ফলে । তা থেকে দেশের জর্জবের্স্টারেরা খাচ্ছেন বসে। তাই দুঃখি কবি ফারুক আহমেদ বলেন কৃষককে বাসলে ভালো সুখে থাকবেন সবে।   সিরাজগঞ্জ সলঙ্গার থানাসহ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখুন লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষকরা আবারো পুরোদমে রোপা-আমন চাষে নেমেছে।ধানের মূল্য হ্রাসে উৎপাদন খরচ জুটছে না তাদের।

ফলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মূলধন হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই মহাজন ও এনজিও ঋণের টাকায় ফসল করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে গরু,ছাগল, হাঁস/মুরগি এমনকি ভিটে মাটি বন্ধুক থুয়ে একে বারে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সলঙ্গা থানার ৬ টি ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকায় এক যোগে চলছে রোপা-আমন চাষাবাদ। বর্ষা মৌসুমের একটি মাস আষাঢ়, আষাঢ় চলেগেলেও সলঙ্গাতে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই তারা গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে মাঠে পানি সেচের মাধ্যমে আগাম জাতের রোপা- আমন চাষে তড়ি ঘড়ি করে এখানকার কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমেছেন মাঠে। কৃষকদের দাবি কৃষি উৎপাদনের প্রধান উপকরণ সার,ডিজেল,কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরী বাড়ছে প্রতি নিয়তই। কিন্তু কৃষকদের কৃষি পণ্যের দাম বাড়ছে না। এতে কৃষি ফসল উৎপাদন করে বেশি লোকসান গুনছেন তারা।  এখনোও ধানের দাম ৬ শত ৫০ টাকা। যা উপাদন খরচ বেশি।

দফায় দফায় সার ও ডিজেলের দাম বাড়ছে। সরকার গ্রাম পর্যায়ের কৃষকদের কথা না ভেবে কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়ে চলছে। গ্রামের কৃষকদের অবলন্বন কৃষি। অন্য কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে আদি পেশা কৃষি উৎপাদনে মওসুমে রোপা -আমন চাষ মনযোগ অব্যাহত রেখেছেন। জানা যায়, অতিরিক্ত খরায় এবারে কৃষি ক্ষেতের উৎপাদন খরচ আশংকাজনক বাড়বে কৃষকরা শস্কা প্রকাশ করছেন। সলঙ্গা আমশড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন,বোরো মওসুমে ক্ষেতে ধান উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ মিলছে না। এতে করে অনেকে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। আমশড়া গ্রামের আরো এক ধান চাষি আব্দুস সামাদ জানান, চার যুগ ধরে তিনি  কৃষি কাজ করে আসছেন। কিন্তু এ বছরের ন্যায় এত ধানের লোকশানের মুখ কখনও তিনি দেখেননি।

এছাড়া পেঁয়াজ, রৌসুন,পাট,মূলা,আলুসহ সবজি চাষ করে এবছরে কোন অর্থ যোগাতে পারেননি তিনি। লোকসানের পরিমান এত বেশি হয়েছে মহাজনের ঋণের টাকা যোগাতে তার গরু বিক্রি করতে হয়েছে। এ অবস্থায় আবারো রোপা -আমন চাষে করতে হবে। মহাজনের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি এ অবস্থায় ধান চাষে লাভ হবে না বলেও তিনি বলেন,আদি পেশা ধানচাষ না করে কোন উপায় নাই। খুদ্দর্শিমলা গ্রামের সুলতান মাহমুদ জানান,এবারে বোরো ধানে ভাল ফলন, কিন্তু কম মূল্যের কারণে বিঘাই ৮/১০ হাজার টাকা তাকে লোকসান গুণতে হয়েছে। বীজ, অন্যর পাওয়ারটিলার হালচাষ বাবদ খচর,শ্রমিক খরচ দিয়ে ১বিঘা জমিতে ১৫ – ১৮ হাজার খরচ হয়েছে। যে ধান ১০০০/- টাকা থেকে ১১০০/- টাকায় বিক্রি হবার কথা তা না হয়ে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই গ্রামের সবুজ জানান,বাব দাদার চৌদ্দ গোষ্ঠি ধরে কৃষি কাজে জড়িত, বর্তমানে কৃষি কাজে নিঃস্ব হয়ে গেলাম কিন্তু কি উপায় বিকল্প কোন পথ নেই তাই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েও রোপা  আমন চাষে নেমেছি। কি করবো কৃষকেতো কেউ মূল্য দেয়না তিনি আরো বলেন, কৃষকে ভাসলে ভালো সুখে থাকবে সবে। 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ