সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারের নামে দিনে ও রাতে  বিদ্যুৎ বিতরণে তীব্র লোডশেডিং

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯, ৭:৩৯ অপরাহ্ন

ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে যখন রোপা- আমন ধান লাগানো শুরু হয়েছে তখনিই বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারের নামে দিনে ও রাতে বিদ্যুৎ বিতরণে তীব্র লোডশেডিংয় রোপা-আমন জমি ও পলিট্রি মুরগির খামারসহ জনজীবন বিপর্যস্ত,ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়েছ।

রায়গঞ্জের সলঙ্গার ধুবিল ইউনিয়নের আমশড়াসহ ১৭টি গ্রামের বিভিন্ন এলাকাতে সকাল ৭টা থেকে থেমে থেমে বিদ্যুৎ বিতরণ চলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে সকাল ৮ হতে ক্রমেই বেড়ে যায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সাড়া দিন সোনার হরিণ বিদ্যুৎ পাওয়াতো দুরে কথা তা দেখা মেলাই ভার। আর রাতে তো কথাই নেই। বিদ্যুতের এই অবস্থার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাগাবাসি। প্রতিদিনই বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।

আর সন্ধার পর অধিকাংশ এলাকা হয়ে পড়ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ করে ব্যবসায়ীমহল হয়ে উঠেছেন অতিষ্ঠ। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়,২৪ ঘন্টায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ ঘন্টা।

উপজেলা জুড়ে চলতি  আবাদ মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। আমশড়া গভীর নলকূপ ডিপমালিক আব্দুল করিম বলেন,সেচ মৌসুমে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরবাহের কথা থাকলেও এবার বিদ্যুৎতেন লুকোচুরিতে তাও মিলছে না সেচ না দিতে পারায় অনেক জমি পানির অভাবে অনেক ভিটা জমি ফেটে  চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা গাফিলাতি এবং বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার ক্রটির কারণে পুরো রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী বিশাল এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে দূর্বিসহ গরমে দিন-রাত লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। এমনকি হজম করতে হচ্ছে ভূয়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলসহ নানা সমস্যা। লাইনম্যান ও রিডিং এবং বিল বিতরণের লোকবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত গ্রাহকসেবা দিতে পারছেনা না তারা।

এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের গ্রাহক বিড়ন্বনার শেষ থাকে না। ঝড়ো হাওয়া ও বৈশাখী  তান্ডবের পরবর্তী রাস্তাঘাটে বিদ্যুৎতের খাম্বা ও তার পড়ে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয় প্রায় ৯৫ হাজার গ্রাহককে। রায়গঞ্জ উপজেলার জোনাল অফিসের মাধ্যমে প্রায় ৯৫ হাজার গ্রাহকে মাত্র ১টি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে ন্দ্রত ও কাঙ্খিত বিদ্যুৎ সেবা ও সুবিধা দিতে পাচ্ছে না বলে জানা যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক লাইনম্যান বলেন,সমিতির পুরো রায়গঞ্জ জুড়ে প্রায় শতভাগ গ্রাহক আছে। সেখানে প্রতি ২০০০ হাজার গ্রহকের জন্য সেবা দেওয়ার কথা ৪-৫ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে তাউ নেই। সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪০০০ হাজার গ্রাহকের জন্য ৩০ থেকে ৪০ জন লোকবল থাকার কথা।  সেখানে ৩ থেকে ৪০০০ হাজার গ্রাহকের জন্য মাত্র ১ জন রিডিংম্যান দিয়ে রিডিং ও কারেন্টের বিলের কাগজ বিতরণ করতে হয়। সলঙ্গার অভিযোগ কেন্দ্রের লোকবল কম থাকাই সেবা বঞ্চিত রায়গঞ্জের ধুবিল,ঘুরকা,নলকা,পাঙ্গাসী, সোনাখাড়া ও সলঙ্গার সর্বসাধারণ। রায়গঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডি জি এম আব্দুল কুদ্দুস জানান,প্রতিদিনই গরমসহ বিদ্যুৎতের গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে, সেইসাথে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্রমেই হ্রাস  পাচ্ছে।

একারণেই সমানভাগে সব এলাকাগুলোতে বন্টন করতে গিয়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে। জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ পাওয়া বিদ্যুৎ বন্টনে উপজেলার  শহরের তুলনায় গ্রামে একটু কম বন্টন করা হয়ে থাকে। এদিকে দিনের উল্লেখযোগ্য সময় আমশড়াসহ ধুবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎহীন থাকায় ব্যবসা বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎতের টানা দিন রাত লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আমশড়া জোরপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। আমশড়া জোরপুকুর বাজারে ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, দির রাত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর তেল দিয়ে চালাতে হচ্ছে। ফলে লাভও কম হচ্ছে।

এলাকবাসী জানান, সন্ধ্যা হলেই সলঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক থেকে দুই ঘন্টা লোডশেডিং থাকছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে ফটোষ্ট্যাট, কম্পিউটার, লেদমেশিন, সাইবার ক্যাফে প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান অধিকাংশ সময়ই থাকছে কর্মহীন।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ যখন কাজের সময় তখনই বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়ির পানির পাস্পগুলোও ঠিক মতো চলছে না।  ফলে বিঘ্ন ঘটছে রান্নার কাজেও।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ