হাসান হাফিজুর রহমান।।
আপনি জানেন, বাঙালির কাছে সরলতার নাম বোকামি, পরোপকারের নাম পাগলামি।
সোজাসুজি তিনটি বিন্দুকে যোগ করলে সরল রেখা হয়। তেমনি মানুষের ও তিনটি পয়েন্ট আছে মস্তিষ্কের চিন্তা, মুখের কথা ও হাতের কাজ। এই তিনটি (চিন্তা,কথা,কাজ) যদি এক হয় তাহলে সে মানুষকে সরল মানুষ বলে। সরল মানুষ মানে বোকা মানুষ নয়। যদিও আজকাল সরলতাকে বোকামী মনে করা হয়।
আজকালকার দিনে কোন মানুষ নিজেকে সরল ভাবতে একদম রাজি নয়। সরলতা কোন সম্মানীয় ব্যাপার না, এটা এখন বোকামি। বিশ্বাস না হলে কোনও মানুষের সরলতা নিয়ে তার সামনে হাসাহাসি করুন টের পাবেন। আজকাল কোন বাপ মা-ই চায়না তার সন্তান সরল থাকুক, যেভাবেই হোক গড়েপিঠে সন্তানদের চতুর বানাতেই হবে আরে পৃথিবী বড়ই কঠিন জায়গা এখানে সরলতার দাম নেই কানাকড়িও।তাই বাবা-মা নিজেদের স্বার্থেই সন্তানদের মাঝে ছলনা, ন্যাকামি আর মিথ্যাচার ঢুকিয়ে দিচ্ছে। কেজি ওয়ানে পড়া এক বাচ্চা সিটি পরীক্ষায় নাম্বার কম পাবার পর শিক্ষিকা গোল দাগ দিয়ে তার ভুল দেখতে বললেন, কিছুক্ষণ পর বাচ্চা উলটো টিচারকে বলছে তার ভুল নেই বরং টিচার নাম্বার কম দিয়েছে। বাচ্চা ইরেজার দিয়ে ভুল মুছে সঠিক করেছিল আর এটা সহপাঠী কয়েকজন টিচারকে জানানোর পর বাচ্চা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। টিচার আলাদা করে বাচ্চাটিকে আদর করে বের করলেন এই দুই নাম্বার কম পাবার জন্য তাকে বাসায় পানিশমেন্ট পেতে হবে —এই ভয়েই সে এই অন্যায় কাজ করেছে। ভরসার জায়গাগুলি এতো ভয়ংকর হলে বাচ্চারাতো মিথ্যা বলবেই। ১০০/১০০পাবার ইঁদুর দৌড়ে সামিল করতে হবে কেন? এই বয়সে আমি, আপনি খেলেইতো কুল পাইনি, নাম্বার কি বুঝছি? তো আমরা কি গোল্লায় চলে গেছি? আর বাচ্চারাইতো ভুল করবে আমি, আপনি করবো না। বাচ্চাদের ভুলত্রুটি যদি সহজভাবে নাই দেখতে পারেন মা বাবা হয়েছেন কেন? নিজেদের স্বপ্ন পুরণ করতে বুঝি?
বিনয় শব্দটাকেও আজকালকার দিনে দুর্বলতা আর সেকেলে ভাবছি আমরা। অবলীলায় বড়দের মুখের উপর কথা বলে নিজেকে বাহবা দিচ্ছি —-আমি সাহসী কিন্তু একবারো ভাবছিনা আমার কাছ থেকে পরের প্রজন্ম কি শিখছে! নিজেদের নিয়ে এতো আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছি যে, নিজের স্বার্থ ছাড়া পরিবারের অন্য কারো কথা ভাবতেও আমাদের ভীষণ আপত্তি। অন্যদের সামান্য ভুল ত্রুটি বড় করে দেখছি তবুও আয়নায় নিজেকে বিচার করছিনা, এতো সময় কই আমাদের? জগত হয়ে যাচ্ছে আমি, তুমিময়। দায়িত্ব, বিচার বিবেচনার চেয়ে আধুনিকতায় ভাসাই নিজেদের, আর সবকিছু গোল্লায় যাক। যেসব মা বাবা নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখে তাদের সন্তানেরা ছাড় দেয়া শিখেনা। এসব আত্মকেন্দ্রিক মানুষেরা নিজ ছাড়া অন্যদের আবেগ, অনুভুতি বুঝেইনা কিন্তু মুখোশ পরে থাকে ভালোমানুষির । সময়ে এদের আমরা ঠিকই চিনি। এদের জন্য করুনাই হয় কখনো ভাবেনা সময় বড় নির্মম, সুদসমেত একদিন সব ফেরত আসবে। প্রকৃতির নিয়মই তাই। আপনাদের স্বার্থপরতা দেখে দেখে আপনাদের সন্তানেরাও স্বার্থপর হবে, নিজ ছাড়া অন্য কাউকেই ছাড় দিবেনা এমনকি নিজের ভাইবোনকেও না। ধুতুরা গাছ লাগিয়ে চন্দনের আশা করা বোকামি
আজকাল সম্পর্ক গুলো ফর্মাল হয়ে যাচ্ছে, যতই সময়ের দাবি বলে চেঁচাই না কেন এটা স্বাভাবিকতা নয়। আসলে আগে নিজেদের শোধরানো জরুরী। নিজেরাই প্রতিনিয়ত অন্যায় করছি আর বাচ্চাদের কাছে আশা করছি আদর্শতা!!! ওদের মানুষ করার আগে নিজেরা আগে মানুষ হই। মনে রাখতে হবে মিসাইল একবার ছোঁড়া হয়ে গেলে কিন্তু আর ফেরত আসেনা।
সবুজ হাসান স্যারের পোস্ট থেকে।
You must be logged in to post a comment.