শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ ।।
সন্তাানের জন্য মায়ের ভালোবাসার যেন শেষ নেই। সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে মায়ের এই ভালবাসার মানদন্ড কোন পাল্লায় পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তেমনি একজন ব্যতিক্রম মা সখিরন নেছা ওরফে ভেজি বুড়ি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর গ্রামের জীর্ন কুঠিরে তার বসবাস। সন্তানের জন্য দীর্ঘ ৪৩ বছর রোজা পালন করছেন এই মহিয়সী নারী। সখিরন নেছা বাজার গোপালপুর গ্রামের মাঠ পাড়ার মৃত. আবুল খায়েরের স্ত্রী। বৃদ্ধা সখিরন নেছা জানান, ১৯৭৫ সালে তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। তাকে পেতে শুরু হয় খোঁজাখুজি। এভাবে চলতে থাকে দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস। কোথাও তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। একদিন তিনি গ্রামের মসজিদের নিকট যায় এবং মসজিদ ছুয়ে শপথ করেন ছেলেকে ফিরে পেলে যত দিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন রোজা রাখবো। সন্ধ্যায় আমি বাড়িতে ফিরে দেখি ছেলে শহিদুল বাড়ির নিকট খেলা করছে। সেই থেকে দীর্ঘ দিন হয়ে গেল রোজা রাখেন সখিরণ। তিনি আরো জানান, সংসার জীবনে তার ৩ ছেলে এবং ৩ মেয়ে। ২ মেয়ে ও ১ ছেলে মাঝে মধ্যেই মানসিক চিকিৎসা করাতে হয়।
এর মধ্যে ১ মেয়ে মানসিক প্রতিবদ্ধি বছর দেড়েক আগে মারা গেছে। বর্তমানে সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতা তিনি পান এবং সপ্তাহে দু’দিন একটি চানাচুর ভাজা কারখানায় কাজ করেন। অবসরে মানুষের ক্ষেতে ঝাল ও কলাই তোলেন। কাজ করে যে টাকা পান তা দিয়ে কোন রকম চলে যাই।
তিনি আরো জানান, ছেলেদের সংসার আছে। তাদেরও ছেলে মেয়ে আছে। ইচ্ছে হলে তারা ডেকে খাবার দেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, মা তার সন্তানদেরকেও ভালবাসেন। কিন্তু আমি বুদ্ধি জ্ঞান হবার পর জানতে পারলাম আমার মা আমার জন্য রোজা করছেন। শুধু তাই নয়, যত দিন জীবিত থাকবেন তত দিনই রোজা রাখবেন। আসলে আমার মায়ের মত আর কোন মা গোটা পৃথিবীতে আছে কিনা আমার জানা নেই।