সত্য বলার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্রসঙ্গ : ঐক্য, পর্ব- ২

মো. মতিউর রহমান দুলাল
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০, ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
সত্য বলার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্রসঙ্গ : ঐক্য, পর্ব- ২

সম্মানিত শিক্ষক বৃন্দ, আস্সালামু আলাইকুম/আদাব। একটি বিষয় সম্পর্কে সকলের পরিষ্কার ধারনা থাকা অতি জরুরী।

সম্মানিত ডিজি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম ফারুক স্যার সবে মাত্র মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে যোগদান করেছেন। আমরা ডিজি স্যারকে ফোরামের সভাপতি জনাব সাইদুল হাসান সেলিম স্যারের নেতৃত্বে ৬ মার্চ ২০২০ তারিখে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য গেলাম শিক্ষা ভবনে। স্যার আমাদের সাথে অত্যন্ত আনন্দের সহিত প্রায় ১.৩০ ঘন্টা সময় দিয়েছেন। স্যারকে আমরা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারনা দিয়ে আসলাম। স্যারের সাথে আমাদের ভাল সম্পর্ক হলো। স্যারকে অন্য একদিন ৪% কর্তন সম্পর্কে বলতে গেলাম, এটা অন্যায় ভাবে কাটা হবে। হয়তো এর জন্য সমহারে সুবিধা দিতে হব, না হয় বন্ধ করতে হবে। স্যার বললেন, আমাকে তো এভাবে বলে নাই ?  আমাকে তো বলেছে, উল্টাটা।

স্যারকে অনুরোধ করলাম বিষয়টা ভাবার জন্য। তিনি বললেন, আচ্ছা আমি দেখব।

আমি আশ্চর্য হই, আমলাদের কৌশলের কাছে আমাদের প্রাজ্ঞ নেতাগন নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছেন মাত্র ১০০০/টাকার বিনিময়ে। তারা একবারও চিন্তা করেন নাই যে, শিক্ষকদের কত বড় ক্ষতি করেছেন ? আমি এবং আমার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি, এই কাজটা কেন করলেন ? উত্তরে তারা বললেন, তারা নাকি এই ৪% কর্তনের কাগজে সই করেননি। তারা হাজিরা খাতায় সই করেছেন।

আমরা কত বড় মূর্খ যে, কোথায় সই করলাম, কেন করলাম এটা চশমা দিয়াও দেখি নাই বা বুঝার মতো নূন্যতম শিক্ষা আমাদের হয়নি। তারা কেহই এর প্রতিকারের জন্য ঘর থেকে বের হননি। কারণ, যদি ১০০০/ টাকা ফেরত দিতে হয়? যায় যাবে প্রান শিক্ষকদের যাবে। আমাদের কি ? এমন ভাবনায় তারা প্রায় সকলেই ঘরে বসে থাকলেন।

আমরা তীব্র প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদের মুখে সচিব স্যার সোহরাব হোসাইন বলেছিলেন, প্রজ্ঞাপন নাকি ভুল বশত হয়েছে। ৪% কর্তন হবে না।

পরে আবার প্রজ্ঞাপন জারি হলো। বর্তমান ডিজি স্যারকে আবার বললাম, একটা কিছু করেন। সকল শিক্ষক নেতাদের একত্রে বসার একটা সুযোগ করেন। আমরা প্রায় সবার কাছে গিয়েছি কেহই একসাথে বসেন না। কর্মসূচী দিলাম। বললাম, জানুয়ারীর ১০ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত আমরা প্রেসক্লাব  অনশন করেছি। ২০ দিনে তিন লক্ষাধিক শিক্ষক প্রেসক্লাব চিনে গেছেন। এখন আবার  লক্ষাধিক শিক্ষক ঢাকা চলে আসবেন ৪% ঠেকানোর জন্য। ডিজি স্যার বললেন, ঠিক আছে আমি দেখছি। আমার থিম ছিল, সবাই এক সাথে হলে আমি স্যারের অনুমতি নিয়ে আবারও একটি ইস্যুতে (জাতীয়করণ) একত্রে বসার প্রস্তাব দিব।

৪% কর্তন না করে কিভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায়, সেজন্য ডিজি স্যার ৩০/০৩/২০১৯ তারিখ  সবাইকে ডাকলেন। স্যারের হল রুমে বসলাম। ফোরামের সভাপতির নেতৃত্বে আমরা প্রায় ৫/৬ জন সহ সকল সংগঠনের নেতারা আসতে থাকলেন। নজরুল ইসলাম রনি স্যারো আসলেন। যার যার সংগঠনের একজন করে বলার সুযোগে কয়েকজন বলেছেন। ভাল কথাই বলেছেন। পরে ঘটনাটা খুবই লজ্জা জনক।

বিএনপি জামাতের মতো রনি স্যার ফ্লোর নিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার সরকার এবং ডিজি স্যারকে হেয় করে কথা বলা শুরু করেছেন। ডিজি স্যার রেগে গেলেন। আমরা সবাই হতবম্ভ। স্যার যেখানে আমাদের বলেছেন, ৪% না কেটে কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায সে জন্যই বসা। আর স্যার রাগে বলে দিয়েছেন, যান কোন কথা হবে না, ৪% কাটা হবে। সবাই হৈ চৈ করলেন, ডিজি স্যার বের হয়ে গেলেন। রনি স্যার চুপ করে বসে থাকলেন। কিছুক্ষন পর আমরাও বের হয়ে দেখি, রনি স্যার দৈনিক শিক্ষাকে বিশাল সাক্ষাতকার দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে যেন তিনি সাত বছর জেল কেটে বের হয়ে তার গুনগ্রাহীদের শান্তনা দিচ্ছেন। মন চাইছিল উনাকে তিন তলা থেকে পিঠায়ে নামিয়ে দেই।

মিডিয়ার মাইকে দুইটা কথা বললেই মনে হয় আমি নেতা হয়ে গেছি।

পারিনি, কারণ আমি শিক্ষক। এমন আচরন আমি করতে পারি না। নিজেকে অনেক কষ্টে সংযত করেছি।

এই রনি স্যারের জন্যই ৪% কর্তন হচ্ছে। আর ফিরাতে পারলাম না। শেষে আমাদের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী কর্মসূচী দিলাম। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আমরা প্রেসক্লাবে আবার অবস্থান নিব। ১ তারিখে প্রেসক্লাবে বসে গেলাম। খুলনা, বরিশাল ও দক্ষিন বিভাগ সহ দূরের কোন শিক্ষক আসতে পারলেন না। কারণ ফণি নামক এক ঘূর্ণিঝড় শুরু হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে রেড এলার্ড জারি করেছেন। আমরা বাধ্য হয়েই কর্মসূচী স্থগিত করেছি। আর পারলাম না ৪% বন্ধ করতে। কেটেই নিল। যারা এর পিছনে কাজ করেছে তারা খুশি হলো। হওয়ার কথাও।

এর পরেও কেও কোন কথা বলেননি। একজন নেতা তো বলেই দিলেন, ৪% কর্তনের শর্তে ৫% ইনক্রিমেন্ট এনেছেন। কত বড় আহাম্মক নেতা আমি।

ফোরামের প্রায় হাজার খানেক শিক্ষকের সই সম্বলিত কাগজ হাইকোর্টে প্রেরন করেছেন ফোরামের ত্যাগী ৪ নেতার নেতৃত্বে। রীট কার্যক্রম চলমান। আশা করছি করোনা মহামারী দূর হলেই আমরা রায় পাব। সকলেই দোয়া করবেন ফোরাম যেন ৪% বন্ধ করতে পারে বা সমপরিমান সুবিধা আদায় করতে পারে।

লিখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। যদি উপযুক্ত মনে হয় তাহলে শেয়ার করে সকলকে জানানোর জন্যও কতৃজ্ঞতা জানাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ। (চলমান)

 

লেখক

সহকারী শিক্ষক

মডেল হাইস্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ