সাদিত আফরোজ, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা তার বাবা শরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার মিরপুরের একটি কলেজের শিক্ষক। বাবার চাকরির সুবাদে কুষ্টিয়ার মিরপুরে তার বসবাস এবং মিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্কুল এবং বাসায় অবস্থানের বিভিন্ন সময়ে মিরপুরের সাবেক সফল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কামারুল আরেফিনের শিক্ষা, জনকল্যাণ ও শিশুদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও স্নেহবোধ সম্পর্কে শুনে তাঁর প্রতি পরম শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়। এ কারণে নির্বাচনের প্রচারপ্রচারণা শুরু হলে কামারুল আরেফিনের নির্বাচনী পোস্টার সংগ্রহ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করে ফুলের শুভেচ্ছা নিনিময় করতে চায়।
আজ শনিবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৪) সকাল নয়টার সময় এমপি’র আমলার বাসভবনে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় এমপি তার কথা শোনেন এবং তাকে মিষ্টিমুখ করান।
জানা গেছে সাদিত কামারুলে ৪০টি পোস্টার সংগ্রহ করেছেন এবং এখনো তার সংরক্ষণে রেখেছেন।

কামারুল আরেফিন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিশুদের নিয়ে খোশ গল্প করতেন, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলতেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকারের উন্নয়ন বিষয়ে তাদের নিয়ে বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন এবং নিজ অর্থায়নে তাদেরকে উপহার দিতেন।
কামারুল আরেফিনের শুরু আশির দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে। এরপর তিনি যুবলীগের রাজনীতি শুরু করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পরে হামলা-মামলায় টিকতে না পেরে এলাকা ছেড়ে চলে যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। ২০১১ সালে মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হন বিপুল ভোটে। পরে তিনি মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৪ সালের পর ইউপি চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এরপর ২০১৮ সালে এসেও একই পদে জয়ী হন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিরপুর ও ভেড়ামারায় কামারুল আরেফিনের জনপ্রিয়তা আছে কর্মীদের মাঝে। দেশ সেরা উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইনুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
জয়ী হয়ে কামারুল আরেফিন বলেন, ‘আমি জনতার নেতা। সব ছেড়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম। জনগণ ভোট দিয়ে আমার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। আমি শুকরিয়া জানাই আল্লাহর দরবারে। মিরপুর-ভেড়ামারাবাসীর এ দেনা আমি কখনো শোধ করতে পারব না। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।’
এদিকে ৩৩ বছর পর সংসদ সদস্য পেল মিরপুরবাসী। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন আব্দুর রউফ চৌধুরী। এরপর ভেড়ামারা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বারবার।
You must be logged in to post a comment.