শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক: ডাকসু ভিপি

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৯ অপরাহ্ন

ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে কবর জিয়ারত করেন তারা। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডাকসু এ তথ্য জানিয়েছে।

এ সময় আবরার ফাহাদসহ জুলাইয়ের সব শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে নেতারা আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন তারা।

এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ কার্যনির্বাহী সদস্য তাজিনুর রহমান ও কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। খুনি হাসিনার শাসনে আমাদের ভারতের অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক দাসত্বের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। শহীদ আবরার ফাহাদ শোষণ, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তার দেখানো পথেই জুলাইয়ে বিপ্লব হয়েছে। শহীদ আবরার যে চেতনা-আকাঙ্ক্ষা লালন করতেন, জুলাইয়ে প্রত্যেক শহীদ ও গাজী একই আকাঙ্ক্ষা লালন করতেন।

ভিপি সাদিক কায়েম আরও বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের এই আত্মত্যাগ এবং জাতীয় জীবনে বিপ্লবী মোড় পরিবর্তনের ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতে ৭ অক্টোবরকে জাতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস ঘোষণা করা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দিবসটি পালনের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জানিয়েছি, প্রতিবছর যেন ৭ অক্টোবরকে আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমরা আশা রাখবো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ৭ অক্টোবরকে আগ্রাসনবিরোধী, আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস হিসেবে যেন ঘোষণা করে। ডাকসুর পক্ষ থেকে এই দিনটিকে আমরা আধিপত্যবাদবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করবো।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি বলেন,‘আজ জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। শহীদেরা যে জন্য জীবন দিয়েছেন- একটি বৈষম্যবিরোধী ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য, আমরা দেখতে পাচ্ছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই জায়গায় যেভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার দরকার ছিল, সেভাবে ধারণ করছে না। যেটা আমাদের অনেক বেশি ব্যথিত করেছে। আমরা অনুরোধ করব, আমাদের শহীদেরা যে জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই আকাঙ্ক্ষাকে যেন তারা ধারণ করেন। এর যদি কোনো ব্যত্যয় হয়, তাহলে খুনি হাসিনা ও ফ্যাসিবাদীদের যে পরিণতি হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি খারাপ পরিণতি তাদের হবে।’

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ