গ্রেপ্তার এড়াতে পালং মডেল থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন (ওসি) তদন্ত মোঃমাসুদুর রহমান ও সন্তোসপুর পুলিশ ফারির সাব-ইন্সেপেক্টর আরাফাত হোসাইন। এবিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ হেলাল উদ্দিন ।
মামলার এজাহার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাজ্জাদ হোসেন সজল, আবদুল মান্নান, মিজানুর রহমান, তানজিল মাহমুদ সুজয়, আস-সাবুর ও বায়েজিদ নামে ছয়জন নিহত হন। ওই দিন আশুলিয়া থানার সামনেই পুলিশের ভ্যানে নিহতদের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম বাদী হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার ২৭ নম্বর আসামি করা হয় মাসুদুর রহমানকে। তিনি তখন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর মাসুদুর রহমানকে শরীয়তপুর জেলা পুলিশে বদলি করা হলে তিনি গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুর পুলিশে যোগদান করেন। যোগদানের পর শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমানকে গত ১২ ডিসেম্বর পালং মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে পদায়ন করেন।
সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগমের দায়েরকৃত মামলাটি গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকার দুই নম্বর সিরিয়ালে ছিল। গত সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তা পেছানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর গ্রেপ্তার হতে পারেন- এমন ভাবনা থেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্মস্থলের কাউকে না জানিয়ে ছুটি না নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থানা থেকে বের হয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেননি মাসুদুর রহমান ও সাব-ইন্সেপেক্টোর আরাফাত হোসেন।
মাসুদুর রহমানের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে জানার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, ২৪ এপ্রিল থেকে পরিদর্শক মাসুদুর রহমান ও সন্তোসপুর পুলিশ ফারিতে কর্মরত সাব-ইন্সেপেক্টর আরাফত হোসাইন অনুপস্থিত। গত ২৪ তারিখ তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছে। তিনি কোথায় আছেন, তা আমি জানি না। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।
এ ব্যপারে মুঠোফোনে শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মোঃ তানভির হোসেনেএর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, মাসুদুর রহমান কোথায় আছেন তা আমরা জানি না।
তিনি জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন সন্তোসপুর পুলিশ ফারিতে কর্মরত আরাফাত হোসাইন এর বিষয়টি আমার জানা নাই খোজ নিয়ে বলতে হবে কিন্তু তিনি কোনো মামলার আসামি কিনা তাও বলতে পারছি না। পুলিশ হেডকোয়ার্টার হতে বা কোনো আদালত হতে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র আমাদের কাছে আসেনি।
You must be logged in to post a comment.